
*শিরোনাম: পীর শামীম হত্
কুষ্টিয়া, ১ মে ২০২৬: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি রাজিব মিস্ত্রিকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানা রোডের নাসিম হেয়ার ড্রেসারের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজিব মিস্ত্রি দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে।
কুষ্টিয়া র্যাব-১২ সিপিসি-১ ও র্যাব-৫ সদর কোম্পানীর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র্যাব সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে পীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক স্কুলছাত্রসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
আগের তিন গ্রেপ্তার
হত্যাকাণ্ডের ১৬-১৭ দিন পর দৌলতপুর থানা পুলিশ নিজ নিজ বাড়ি থেকে এক স্কুলছাত্রসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্র আলমগীর হোসেনকে (১৬) গ্রেপ্তার করা হয়। সে একই গ্রামের তছিকুল ইসলামের ছেলে এবং ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশের দাবি, পীরের দরবারে হামলার সময়ের ধারণকৃত ভিডিও বিশ্লেষণ করে তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া স্কুলছাত্র পীর হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি নয়। তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার স্কুলছাত্রের বাবা তছিকুল ইসলাম দাবি করেন, “রাতে পুলিশ বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর অনেকেই সেখানে দেখতে গিয়েছিল, আমার ছেলেও গিয়েছিল। এখন তাকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে আমার ছেলে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়।”
এর আগে গত রবিবার দিবাগত গভীর রাতে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের নাহারুল মন্ডলের ছেলে বিপ্লব হোসেন (২৬) ও রবিউল ইসলামের ছেলে আলিফ ইসলামকে (২৩) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
*মামলার আসামি যারা*
‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যার ঘটনায় ইসলামী ছাত্র শিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদকে (৩৬) প্রধান আসামি করা হয়েছে।
মামলার অপর ৩ আসামি হলেন – বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে জামায়াত সমর্থক রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ফিলিপনগর ইসলামপুর গ্রামের সিহাব (সাফি) (৪৫)। এছাড়া অজ্ঞাত ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
*যেভাবে হত্যাকাণ্ড*
উল্লেখ্য, পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে গত ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানায় হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে দোতলা থেকে নিচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালায়।
হত্যাকাণ্ডের ৩ দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার ১৬-১৭ দিন পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামিরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
*প্রতিবেদক: মোঃ তরিকুল ইসলাম খান*
_দৈনিক জন জাগরণ_

