
মোঃ তাইনুল ইসলাম:
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ লক্ষ্যে প্রায় ২৯ বছর পর আবারও তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে ১৯৯৬ সালে প্রথমবার মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হলেও পচন ধরার কারণে চিকিৎসকরা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করতে পারেননি। ফলে হত্যা মামলার পুনঃতদন্তের অংশ হিসেবে নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ পুনরায় উত্তোলনের অনুমতি দেন। একই সঙ্গে মরদেহ উত্তোলনের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশও প্রদান করা হয়।
বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সালমান শাহ’র মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের স্বার্থে আদালতের অনুমতি নিয়ে মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছিল এবং আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর মরদেহ উত্তোলন করে পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
যেভাবে ঘটেছিল সেই ঘটনা:
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালমান শাহ’র মা নিলুফা জামান চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় তার সঙ্গে দেখা করতে যান। সে সময় স্ত্রী সামীরা হক ও গৃহকর্মী তাদের জানান, সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন।
পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানানো হয় যে, সালমান শাহ’র শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। দ্রুত বাসায় পৌঁছে তারা তাকে শয়নকক্ষের খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্ত শেষে সালমান শাহ’র মরদেহ সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। একই দিন রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়।
অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা:
দীর্ঘদিন আলোচিত এই মৃত্যুর ঘটনায় গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালত অপমৃত্যুর মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরদিন সালমান শাহ’র মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় সালমান শাহ’র স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
দ্বিতীয়বার মরদেহ উত্তোলন:
তদন্ত নথি অনুযায়ী, এটি সালমান শাহ’র মরদেহ উত্তোলনের দ্বিতীয় ঘটনা। মৃত্যুর নয় দিন পর, ১৯৯৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতের নির্দেশে প্রথমবার মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল।
প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা মত দেন, ফাঁসের কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাটি আত্মহত্যাজনিত। তবে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে গঠিত মেডিকেল বোর্ড জানায়, মরদেহে পচন ধরার কারণে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, হত্যা মামলা হিসেবে পুনঃতদন্তের অংশ হিসেবে নতুন করে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের আলোচিত এই মৃত্যুরহস্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। সেই কারণেই আদালত মরদেহ পুনরায় উত্তোলনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

