
তেহরান প্রতিনিধি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাযায় শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মুসাল্লায় নেমেছে কোটি কোটি মানুষের ঢল। কালো পতাকা, ইরানের জাতীয় পতাকা আর “শহীদ নেতা”র প্রতিকৃতি হাতে রাস্তা থেকে রাস্তায় জনসমুদ্র। কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জানাযাগুলোর একটি।
সকাল থেকেই তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মুসাল্লা প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-শিশু সবাই কাতারে কাতারে দাঁড়িয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের সদস্যদের কফিনও কাচের বাক্সে রাখা হয় মুসাল্লার মূল মঞ্চে।
শোক নয়, প্রতিরোধের শপথ
জানাযা পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কোমের জুমার ইমাম আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ সাঈদি বলেন, “আজকের এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে শত্রুরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারেনি। এই শোককে আমরা জাতীয় শক্তিতে রূপান্তর করব। শহীদের রক্ত বৃথা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এই বিপুল উপস্থিতি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থার আরেকটি গণভোট।”
এক সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় শোক
ইরান সরকার এক সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও গণ-জানাযার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তেহরানের পর কফিন নিয়ে যাওয়া হবে কোম, নাজাফ ও কারবালা হয়ে। আগামী বৃহস্পতিবার ইরানের পবিত্র নগরী মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাখ লাখ মানুষের যাতায়াত, খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করতে বিশেষ ট্রেন ও বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। তেহরানজুড়ে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
বিশ্ব নেতাদের শ্রদ্ধা
জানাযায় অংশ নিতে প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধি তেহরানে এসেছেন। ভারতের পক্ষ থেকে পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি, কংগ্রেস নেতা সালমান খুরশিদ ও প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা উপস্থিত ছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
নতুন নেতৃত্ব
হামলায় আহত হওয়ায় খামেনির পুত্র ও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি জানাযায় উপস্থিত ছিলেন না। তবে তার তিন ভাই মোস্তফা, মেইসাম ও মাসুদ পিতার কফিনের পাশে নামাজে ইমামতি করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই জানাযাকে ইরান তার অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও আন্তর্জাতিক অবস্থান তুলে ধরার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে।
গ্র্যান্ড মুসাল্লা থেকে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কফিন কোমের পথে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাখো মানুষ আবারও রাস্তায় নেমে আসে।

