
মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু-গাইবান্ধা
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। নানা অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি এখন নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ এখানে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতর ও বাইরের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। দুর্গন্ধে সাধারণ মানুষের জন্য সেখানে দাঁড়ানোই দায়। শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের ঠাঁই হচ্ছে হাসপাতালের মেঝেতে। অথচ হাসপাতালের নতুন বহুতল ভবনটি তৈরি থাকলেও সেটি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়নি। এটি চালু হলে শয্যা সংকট অনেকটাই নিরসন হতো বলে ভুক্তভোগীদের ধারণা।
হাসপাতালটির বর্তমান পরিস্থিতির পেছনের মূল কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে জনবল সংকট। হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার অনুমোদন পেলেও জনবল কাঠামো রয়েছে মাত্র ১০০ শয্যার। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের অভাবে রোগীরা সঠিক সময়ে সেবা পাচ্ছেন না। এছাড়া হাসপাতালের এক্স-রে ও ইসিজি মেশিনগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। ফলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে সরকারি ওষুধ নিয়ে। সরকারি বরাদ্দের ওষুধ রোগীদের না দিয়ে বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ফলে হাসপাতালের স্টোরে ওষুধ সংকট দেখিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে বাইরের দামি ওষুধের নাম লিখে দেওয়া হয়। দরিদ্র রোগীরা বাধ্য হয়ে চড়া দামে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। এর ওপর ভর্তিকৃত রোগীদের যে খাবার দেওয়া হচ্ছে, তাও মানসম্মত নয় বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, চিকিৎসা নিতে এসে আমাদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মেঝেতে শুয়ে থাকতে হয়। চিকিৎসক কম হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সেবা পাওয়া যায় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাইবান্ধার মতো জনবহুল এলাকায় হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অথচ এই হাসপাতালে আইসিইউ (ICU) ইউনিট না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা থেকে দূরে রেফার করতে হয়, যা অনেকের ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়।
হাসপাতালের এই করুণ দশা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও প্রতিকার মিলছে না বলে ক্ষোভ তাদের। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি কামনা করেছেন গাইবান্ধাবাসী

