
হাসান মাহমুদ জয়-কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেছেন, কোনো কোনো মহল প্রচার করার চেষ্টা করছে যে সংসদ সদস্যের বাজেট বরাদ্দ ফেরত যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমার স্পষ্ট বক্তব্য হলো, আমি কুড়িগ্রাম ও কুড়িগ্রামের মানুষকে হৃদয়ে ধারণ করে সংসদে কথা বলি এবং বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে এলাকার জন্য বরাদ্দ আনার চেষ্টা করি। কিন্তু এখানকার বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত, বিশেষ করে সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলা পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার আচরণ আমার কাছে জনগণবিরোধী মনে হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মিলনায়তনে একটি কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ঐসব কর্মকর্তারা নিজেদের ‘স্যার’ দাবি করতে খুব ভালোবাসেন, কিন্তু জনগণকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে প্রস্তুত নন। তারা জনগণকে কষ্ট দিতে পছন্দ করেন এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। তারা এখনো ফ্যাসিস্টদের মতো আচরণে লিপ্ত রয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ভূমি কর্মকর্তা কিংবা ইউএনও—সবাই যেন একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সব সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা সবাই মিলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন এবং নিজেদের ভাগবাঁটোয়ারা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আমাকে কাজ করতে দিচ্ছেন না ও কোনো সহযোগিতা করছেন না। টিআর-কাবিখা বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এগুলো জনগণের কাজ, এখানে কাউকে একটি টাকাও অনৈতিকভাবে দেওয়া হবে না। সিন্ডিকেটের কারণে যদি কোনো কাজ পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই অপতৎপরতা সবার সামনে তুলে ধরব। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল নিয়ে ছড়ানো অপপ্রচারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য বলেন, হাসপাতাল নিয়ে একটি গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে, আমি নাকি প্রতি মাসে এখান থেকে ১৪ লাখ টাকা নিই। কুড়িগ্রামের সাংবাদিকদের প্রতি আমার চ্যালেঞ্জ রইল—যারা এসব ভিত্তিহীন কথা ছড়াচ্ছে, তাদের আমার সামনে এনে তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করতে বলুন। মূলত একটি ষড়যন্ত্রকারী সিন্ডিকেট গোষ্ঠী মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করার প্রচেষ্টা সহ্য করতে পারছে না বলেই এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে কোনো অপপ্রচারই আমাদের জনকল্যাণমূলক কাজ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। উক্ত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান তাওহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, শ্রমিক শক্তির জেলা আহ্বায়ক মজনু মিয়া, ছাত্রশক্তির জেলা আহ্বায়ক জাহিদ হাসানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

