
মোঃ তাইনুল ইসলাম
কক্সবাজারে বর্ষা মৌসুম এলেই জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। শহর ও আশপাশের এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়া, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকা এবং যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়া যেন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসময় পানি নিষ্কাশনের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত খালগুলো দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন এলাকার খাল পুনরুদ্ধারে বড় উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের ৫২টি খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রায় ২১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এসব খাল সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ কোটির বেশি টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে শুধু জলাবদ্ধতা কমবে না, বরং কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বাড়বে, মাছ ও লবণচাষে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে।
কক্সবাজার সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাল—বারগোদা, কাটাখালী, ঘাটিয়াখালী ও পাতিলা খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিশেষ করে পাতিলা খাল সচল করা গেলে বর্ষাকালে শহরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।
রামু উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত সরিয়ে নিতে মিঠাছড়ি ও লামার খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে কাজ শেষ হওয়ায় পানি নিষ্কাশনে সুফল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্যদিকে মহেশখালী, চকরিয়া, টেকনাফ, উখিয়া ও পেকুয়াতেও একাধিক খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে জলাবদ্ধতার সমস্যা কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তবে পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু খাল খনন করলেই হবে না; দখল ও দূষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত না করলে কয়েক বছরের মধ্যেই খালগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তাদের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।

