
নিজস্ব প্রতিনিধি :
ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গানম্যানসহ প্রবেশ এবং মিলিটারি পুলিশের সঙ্গে আচরণ ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাটিতে ক্যান্টনমেন্টের নিয়ম-কানুন, সামরিক শৃঙ্খলা এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র জানায়, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশের সময় গানম্যানসহ চলাচল এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে খালিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ সময় মিলিটারি পুলিশের সঙ্গে কথোপকথনে তাঁর আচরণ ও বক্তব্যকে অনেকেই অশোভন ও উত্তেজনাপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। সামরিক সূত্রগুলোর মতে, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে বেসামরিক ও সামরিক—উভয় পর্যায়ের ব্যক্তিদের জন্যই নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ ও শৃঙ্খলা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে খালিদুজ্জামান বিভিন্ন বক্তব্যে দাবি করেন, তিনি ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। একই সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় ভূমিকা নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত মতামতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা ও ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক উসকে দিচ্ছে।
সামরিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মিলিটারি পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখিয়ে নিয়মের ব্যতিক্রম দাবি করা হলে তা সামরিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রচারণা মাঠপর্যায়ে প্রভাব ফেলছে। এসব প্রচারণার প্রভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আচরণে বাড়তি উত্তেজনা ও আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। তাঁদের মতে, এটি শুধু একটি নির্বাচনী ইস্যু নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা, নিরপেক্ষতা ও সম্মান বজায় রাখার প্রশ্নের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী পরিবেশে এ ঘটনা নতুন করে উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশের মতে, যে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীই হোক না কেন, ক্যান্টনমেন্ট ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আচরণে দায়িত্বশীল ও সংযত থাকা জরুরি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হয়—এমন বক্তব্য ও আচরণ থেকে রাজনৈতিক নেতাদের বিরত থাকা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি ঘিরে ঢাকা-১৭ আসনে রাজনৈতিক আলোচনা ও সমালোচনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

