
বেদুইন হায়দার লিও :
মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলাসহ বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাকে বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা ঘোষণা করার দাবী করেন মুক্তিজোট।
২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য (দপ্তর) উত্তম কুমার ঘোষ স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে মুক্তিজোটের সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজামাল আমিরুল বলেন ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার মর্যাদা রক্ষার লড়াই ছিল না, এটি ছিল বৈষম্য, দমননীতি ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদের এক ঐতিহাসিক উদাহরণ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য আজও ভাষা আন্দোলনের সেই চেতনা পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।
তাঁরা আরও বলেন আপন ভাষা রক্ষার সংগ্রামের পরিণতিতেই এদেশের স্বাধীনতা এসেছিল কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দী পরেও আমাদের আদালতের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা হয়নি। অথচ, বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রিয়ভাবে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবী করছি আমরা।
এমনকি সরকার সর্বস্তরে (আন্তর্জাতিকতার শর্ত ব্যতিরেকে) বাংলা ভাষা চালু করার ক্ষেত্রে কেন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে বাধ্য করছে না- এই মর্মে হাইকোর্ট থেকে রুলও জারি করেছে। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য খোদ আদালতের দাপ্তরিক ক্ষেত্রই অদ্যাবধি এই নির্দেশের বাইরে আছে! এক্ষেত্রে কথিত ‘টেকনিক্যাল সমস্যা’ বা পরিভাষাসহ বহুবিধ অজুহাতে বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা হওয়ার ক্ষেত্রে আরও ১০০ বছর পেরিয়ে গেলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না বলে জানান তাঁরা।
তাই তাঁরা দাবি জানান বাংলাকে দ্রুত বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা ঘোষণা করা হক।
এই মহান দিনে মুক্তিজোটের নেতৃবৃন্দ ৫২ থেকে ২৪ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং দেশবাসীকে ভাষা আন্দোলনের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

