
মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু-গাইবান্ধা :
র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনসহ অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদীর এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ভিকটিম একজন বাক প্রতিবন্ধী কিশোরী। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ লাল মিয়া (৪৫) বাদীর প্রতিবেশী হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ইং ১৪/১০/২০২৫ তারিখ সকাল ০৭.০০ ঘটিকায় ভিকটিম নিজ বাড়ী হতে হাঁটতে হাঁটতে প্রতিবেশী আসামির বাড়ীর কাছে বেড়াতে যায়। এরপর বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও ভিকটিম বাড়ীতে ফিরে না আসলে বাদী ভিকটিমকে আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে একই তারিখ ইং ১৪/১০/২০২৫ তারিখ সকাল ০৭:৩০ ঘটিকায় গ্রেফতারকৃত আসামি তার বসতবাড়ী সংলগ্ন পরিত্যক্ত বাড়ীর উত্তর পার্শ্বে টিউবওয়েলের পাড়ে গ্রেফতারকৃত আসামি কর্তৃক ভিকটিমকে বিবস্ত্র অবস্থায় ধর্ষণ করতে দেখে বাদী চিৎকার দেয়। বাদীর চিৎকারে আশপাশের লোকজনকে এগিয়ে আসতে দেখে গ্রেফতারকৃত আসামি ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। উল্লেখিত ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৫/২২৬,তাং-১৬/১০/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা- ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী-২০২০) এর ৯(১)।
ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামি চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে ও আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের এর চৌকস আভিযানিক দল ইং ২৩/০১/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ০৬.২০ ঘটিকায় অভিযান পরিচালনা করে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর থানাধীন ০২নং নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম খামার দশলিয়া এলাকা হতে উক্ত চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ০১। মোঃ লাল মিয়া (৪৫), পিতা-মৃত আব্দুল করিম, সাং-পশ্চিম খামার দশলিয়া, থানা-সাদুল্লাপুর, জেলা-গাইবান্ধা’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

