
সুমন খান :
ঢাকা২০১৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ দলের বাঁহাতি পেসার কাজী অনিক ইসলাম—যার হাত ধরে একসময় দেশের ক্রিকেট ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিল আজ দীর্ঘদিনের ইনজুরি ও আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দুরবস্থার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। এর পরপরই তার পক্ষ থেকে ক্রিকেটারটির চিকিৎসা ও সার্বিক সহায়তার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে নিজ বাসভবনে কাজী অনিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। এ সময় তিনি তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কাজী অনিকের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন।প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব সাক্ষাৎ শেষে আমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেন,বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব সময়ই দেশের প্রতিভাবান ও অসহায় ক্রীড়াবিদদের প্রতি সংবেদনশীল। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কাজী অনিক সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে না পারা পর্যন্ত চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের দায়িত্ব নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে খেলে যাওয়া একজন ক্রিকেটারকে এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখা আমাদের জন্য লজ্জার। খেলোয়াড়দের শুধু মাঠে থাকতেই মূল্যায়ন করা যাবে না তাদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত দায়িত্ব।দুঃসময়ে আশার আলো দেখছেন কাজী অনিক সহযোগিতার আশ্বাস পেয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কাজী অনিক ইসলাম বলেন,দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরি আর আর্থিক সমস্যার কারণে আমি খুব কঠিন সময় পার করেছি। অনেক জায়গায় সাহায্যের জন্য গিয়েও কোনো সাড়া পাইনি। এই অবস্থায় তারেক রহমান ও আমিনুল হকের সহযোগিতার আশ্বাস আমাকে নতুন করে সাহস দিয়েছে।তিনি বলেন, “আমি আবারও মাঠে ফিরতে চাই। দেশের জন্য খেলাই আমার একমাত্র স্বপ্ন। যদি সুস্থ হওয়ার সুযোগ পাই, ইনশাআল্লাহ আবারও নিজেকে প্রমাণ করতে চাই।
সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারের করুণ বাস্তবতা ২০১৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা এই বাঁহাতি পেসারকে একসময় দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় বোলার হিসেবে বিবেচনা করা হ
তো। কিন্তু ধারাবাহিক ইনজুরি, পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাব এবং আর্থিক সংকট ধীরে ধীরে তাকে মাঠের বাইরে ঠেলে দেয়।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, কাজী অনিকের ঘটনা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবহেলিত খেলোয়াড়দের বাস্তব চিত্রই তুলে ধরে। রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড়ই হারিয়ে যাচ্ছেন অন্ধকারে।
এ প্রেক্ষাপটে কাজী অনিকের পাশে তারেক রহমানের সহযোগিতার আশ্বাস কেবল একজন ক্রিকেটারের জন্যই নয়, বরং অবহেলিত ক্রীড়াবিদদের জন্যও একটি আশার বার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

