
মোঃ গোলাম রাব্বানী-স্টাফ রিপোর্টার :
বাগেরহাটের চিতলমারীর শিবপুর মধ্যপাড়া গ্রাম থেকে ঝুমা গাইন (২৪) নামের এক গৃহবধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় তাঁর স্বামীর বাড়ি চিতলমারীর শিবপুর মধ্যপাড়া গ্রাম থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় গৃহবধূর ঝুলন্ত এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ঝুমা গাইন সিংগাপুর প্রবাসী সুব্রত মন্ডলের স্ত্রী ও টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের অনার্স (বাংলা) শেষ বর্ষের ছাত্রী এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নবুখালী গ্রামের দিলিপ গাইনের মেয়ে। সুব্রত মন্ডল ও ঝুমা গাইন দম্পতির প্রজ্ঞা মন্ডল (৪) নামের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় চিতলমারী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তর জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
মৃত ঝুমা গাইনের ভাসুর সুকান্ত মন্ডল জানান, তাঁর ছোট ভাই সুব্রত মন্ডল ১৫ বছর ধরে সিংগাপুর প্রবাসী। পাঁচ বছর আগে তাঁর ভাই ও ঝুমার বিয়ে হয়। তাদের প্রজ্ঞা নামের একটি মেয়ে সন্তান আছে। দুই বছর আগে ভাই সুব্রত আবারও সিংগাপুর চলে যায়। গ্রামের বাড়ি শিবপুর মধ্যপাড়ায় তাঁদের বৃদ্ধা মা চঞ্চলা মন্ডল (৬০), ভাইয়ের স্ত্রী ঝুমা ও ভাতিজি প্রজ্ঞা থাকত। মঙ্গলবার রাতে সকলে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বুধবার সকালে বিছনায় ঝুমাকে দেখতে না পেয়ে তাঁর মা খুঁজতে থাকেন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তিনি দেখতে পান ঘরের আড়ায় গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুমা আত্মহত্যা করেছে। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেয়।
মৃত ঝুমা গাইনের বড় ভাই দিপঙ্কর গাইন বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে বোনের মৃত্যু আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।
এবিষয়ে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শাহাদাৎ হোসেন জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঝুমা গাইন আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আসল কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

