
মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু-গাইবান্ধা :
গাইবান্ধায় খামারে সংঘবদ্ধ হামলা, পশু-পাখি লুট ও গাছ কেটে সাবাড় ক্ষতি প্রায় ১০ লাখ টাকা, উদ্যোক্তা দমনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ।
উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের কথা যতই বলা হোক না কেন, বাস্তবে গাইবান্ধায় এক গ্রামীণ উদ্যোক্তার স্বপ্ন ধ্বংস করে দেওয়ার নির্মম চিত্র উঠে এসেছে। সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জগৎতারা-গোপালপুর গ্রামে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালানো সংঘবদ্ধ হামলায় একটি সমন্বিত কৃষি খামার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা, যা একজন গ্রামীণ উদ্যোক্তার জন্য সর্বনাশ ডেকে এনেছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকাল সাড়ে ৪টার পর। ভুক্তভোগী উদ্যোক্তা এস এম কবির মামুন (৪০) জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী পক্ষ তার খামারে হামলা চালিয়ে পশু-পাখি লুট, হত্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ধ্বংস করে দেয়।
খামারে থাকা ১৬০টি হাঁসের একটিও অবশিষ্ট নেই। এছাড়া ১১টি ছাগলের মধ্যে মাত্র ৪টি এবং ৭০টি দেশি মুরগির মধ্যে মাত্র একটি জীবিত রয়েছে। বাকিগুলো লুট কিংবা নিধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এতে স্পষ্ট হয়, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং উদ্যোক্তাকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করার সুপরিকল্পিত হামলা।
হামলাকারীরা শুধু পশু-পাখিতেই থেমে থাকেনি। তারা উদ্যোক্তার ভবিষ্যৎ আয়ের পথ বন্ধ করতে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলে। এর মধ্যে রয়েছে—
চারটি মেহগনি, পাঁচটি পেঁপে, চারটি লেবু, একটি কলা, একটি নারিকেল, দুটি পেয়ারা ও তিনটি সুপারি গাছ। স্থানীয়দের মতে, এসব গাছ কাটা উদ্যোক্তার দীর্ঘমেয়াদি কৃষি প্রকল্প ধ্বংসের অংশ।
ভুক্তভোগীর অভিযোগে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে।
একেএম রেজাউল করিম বকুল, তার স্ত্রী জেরিন বেগম, বোন নুরুনাহার বেবী, মজিবর রহমান খোকন, এ.এস.এম জিয়াউল করিম শিমুল, সুমাইয়া আক্তার শিমুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনকে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের নির্দেশে লাঠি, রড, ছোরা, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে খামারের গেট ভেঙে অনধিকার প্রবেশ করে এ তাণ্ডব চালানো হয়।
এস এম কবির মামুন বলেন,
আমি কোনো অপরাধ করিনি। ধার করা টাকা ও নিজের শ্রমে খামার গড়ে তুলেছিলাম। পরিকল্পিতভাবে আমাকে পথে বসানোর জন্যই এই হামলা করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
এ ঘটনায় গাইবান্ধা থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা খামারের টিনের সেডঘর ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার অবকাঠামোগত ক্ষতি করে এবং হাঁস-মুরগি ও ছাগল লুট করে নিয়ে যায়, যার মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকার বেশি। একইসঙ্গে খামারে অগ্নিসংযোগ, পুকুরে বিষ প্রয়োগ ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়।
এলাকাবাসী দেলোয়ার হোসেন ও হামিদা বেগম বলেন,
এটা শুধু একজন মানুষের ক্ষতি নয়। একজন উদ্যোক্তাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। যদি এর বিচার না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ আর খামার করতে সাহস পাবে না।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত হামলা কেবল ফৌজদারি অপরাধ নয়; এটি গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। অপরাধীরা যদি আইনের বাইরে থেকে যায়, তাহলে আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে পড়বে।
ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
একজন উদ্যোক্তাকে পরিকল্পিতভাবে নিঃস্ব করে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপই পারে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিতে উদ্যোক্তা নিপীড়ন চলবে না।

