
সুমন খান :
রাজধানীর হৃদপিণ্ড মিরপুর, আর সেই মিরপুর এক নম্বরের মাজার রোড এখন পরিণত হয়েছে ‘ওপেন ড্রাগ মার্কেট। দিনের বেলা থেকে গভীর রাত—যে সময়ই যান না কেন, চোখে পড়বে একই দৃশ্য: পথের ধারে দাঁড়িয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোররা নির্দ্বিধায় ১০০ টাকার, ২০০ টাকার ছোট ছোট প্যাকেটে মাদক বিক্রি করছে। কোনো ভয় নেই, কোনো লুকোচুরি নেই সবই চলছে প্রশাসনের নাকের ডগায়।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই মাদক ব্যবসা দিনের পর দিন নয়, বছরের পর বছর ধরে চলছে। বহুবার থানায়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাননি তারা। বরং অভিযোগকারীরাই অনেক সময় উল্টো হুমকির মুখে পড়েন।একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,প্রশাসন কি দেখেনা? নাকি দেখেও চুপ থাকে? এগুলো আর গোপন কিছু না সরাসরি রাস্তার উপরেই সব চলছে!অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার,সবচেয়ে ভয়ংকর দিক সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো,এ ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে কমবয়সী ছেলে পোলাপান।
এরা স্কুল কলেজে যাওয়ার বয়সে দাঁড়িয়ে আছে মাদক বিক্রির লাইনে। কেউ ৫০ টাকার, কেউ ১০০ টাকার লোভে পা দিচ্ছে অপরাধের জগতে।এতে একদিকে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন প্রজন্মের অপরাধী দল, অন্যদিকে সমাজের ভিতকেও নষ্ট করে দিচ্ছে এই মাদক সন্ত্রাস।কোথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী?মাজার রোডের দুই পাশে সিসিটিভি, নিয়মিত টহল—সবই আছে। কিন্তু নেই কোনো কার্যকর ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, রহস্যজনক নীরবতার কারণে মাদক ব্যবসা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।প্রশ্ন উঠছে,এত বড় একটি মাদক চক্র কি প্রশাসনের অজানা?নাকি অন্য কোনো শক্তি তাদের রক্ষা করছে?ফলাফল,একটি এলাকা ধীরে ধীরে অপরাধের স্বর্গে পরিণত হচ্ছে,মাদক কেনাবেচার সাথে সাথে বাড়ছে ছিনতাই, ঝগড়াবিবাদ এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ রাস্তায় হাঁটতেও ভয় পান।
অভিভাবকরা সন্তানদের একা বাইরে যেতে দেন না।এখনই জরুরি ব্যবস্থা প্রয়োজন,সচেতন নাগরিকরা মনে করেন,অবিলম্বে বিশেষ পুলিশের অভিযান,মাদক চক্রের গডফাদারদের গ্রেপ্তার,অপ্রাপ্তবয়স্কদের পুনর্বাসন এলাকার নিরাপত্তা জোরদার এই চারটি পদক্ষেপ নিতে না পারলে মিরপুর একের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
রাজধানীর মাঝখানে এভাবে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা চলতে পারে,এটা নিজেই রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক।প্রশাসনের নীরবতা কি অযোগ্যতা, অদক্ষতা নাকি অন্য কোনো স্বার্থ এটা জানার অধিকার এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের আছে।এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি,মাদক মুক্ত মিরপুর চাই, প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ চাই!

