
এ বি অপু :
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের মধ্যে একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ জুন) লন্ডনের ওয়েস্ট লন্ডনের একটি অভিজাত হোটেলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সূত্র জানায়, বৈঠকটি ছিল তিন ধাপে বিভক্ত—প্রথমে ২০ মিনিটের এক সৌজন্যমূলক কথোপকথন ও ছবি তোলা, এরপর প্রায় ৪০ মিনিট ধরে দু’জনের মধ্যে একান্ত বৈঠক এবং শেষে আরও ২০ মিনিটের খোলামেলা আলোচনা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী দিনের নির্বাচন, আন্তর্জাতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তা এবং ড. ইউনুসের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারেক রহমান নাকি বৈঠকে সরাসরি ড. ইউনুসকে “ব্ল্যাঙ্ক চেক” দেওয়ার প্রস্তাব দেন—তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়ে বিএনপি সর্বাত্মক সমর্থন দেবে, এমনটিই বলা হয়েছে ওই বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্রের বরাতে।
বৈঠকে ড. ইউনুস বলেন, “নির্বাচন একটা সামান্য জিনিস, যদি জনগণ মেনে না নেয়, তাহলে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি পথ খুঁজছি, যেখানে গণতন্ত্র, ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা একই ছাদের নিচে আসে।”
বিএনপির তরফে এই বৈঠক নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে লন্ডন বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই বৈঠক নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, “ড. ইউনুস একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। তিনি অতীতে দেশের উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত করেছেন। এখন তিনি বিএনপির সঙ্গে মিলে আবারও ষড়যন্ত্র করছেন।”
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক-ইউনুস বৈঠক আসন্ন নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসী কূটনৈতিক মহলে এই বৈঠকের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
ড. ইউনুস বা তাঁর প্রতিনিধি দল এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।

