
মাসুম বিল্লাহ
খুলনা মহানগরী এলাকায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রবিবার (২৮ জুন ২০২৬) সকালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে একটি শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সরকার নিয়মিত এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি।” তিনি মহানগরীর প্রতিটি শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন এবং অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় সহকারী পরিচালক ডা. অর্পণা বিশ্বাস, কেসিসি’র সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খানম, কেসিসি’র এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা-খুলনার উপপরিচালক মো. আকিব উদ্দিন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. মো. আরিফুর রহমান, থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহজাহান, ইউনিসেফ-খুলনার ইপিআই স্পেশালিস্ট তাপস কুমার বিশ্বাস এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্ভিল্যান্স ইমুনাইজেশন মেডিকেল অফিসার নাজমুর রহমান সজিব। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম।
উল্লেখ্য, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এবারের ক্যাম্পেইনে মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১২ হাজার ৩৩৭ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৯৬ হাজার ৬১৫ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। কর্মসূচি সফল করতে ৬২ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১ হাজার ৪২০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া কার্যক্রম তদারকির জন্য ৮০টি মোবাইল টিম কাজ করছে।

