
নিজস্ব প্রতিনিধি :
সড়ক যেমন মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগের জন্য অপরিহার্য, ঠিক তেমনি খাল ও জলাশয় খনন পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও নিষ্কাশনের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য। মানব সভ্যতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পানির চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখার গুরুত্ব আরো অপরিসীম।
জলাবদ্ধতা ও বন্যা হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে খাল- বিলের ছড়া ভরাট হয়ে যাওয়াতেই বর্ষার অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারছেনা , যার ফলে শহর ও গ্রামে স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। খাল খনন করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখলেই জলাবদ্ধতা দূর হবে বলে মনে করি।
পানি নিষ্কাশন ও খাল খননে সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা একযোগে কাজ করা জরুরী । বর্তমান বাস্তবতায় পানি প্রবাহের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য দেশব্যাপী নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে সরকার কে। বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের জলাশয় ও খাল পুনঃখনন করা জরুরী হয়ে পড়েছে ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) তথ্যমতে, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ছোট-বড় মিলে মোট ১৩৫টি সরকারি খাল (খাল, পুকুর, বিল ও পাহাড়ি ছড়া ইত্যাদির তালিকা) রয়েছে। উপজেলার প্রধান ও দীর্ঘতম খালটি হলো জলকদর খাল ৩২ কিলোমিটারের জলকদর খাল, মাত্র ২৫শ মিটার সংস্কার হয়েছে। এটি বাঁশখালীর সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী এবং প্রধান খাল জলকদর খাল। সাঙ্গু বা শঙ্খ নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি বঙ্গোপসাগরে মিশে গেছে।
সোনাইছড়ি (হোনাইছড়ি) খাল, চেচুরিয়া খাল, বৈলছড়ি ইউনিয়নের একটি ঐতিহাসিক খাল, যা পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করার কাজের জন্য পরিচিত বাঁশখালীতে জিয়াউর রহমানের খননকৃত চেচুরিয়া খাল। অন্যান্য মধ্যে রয়েছে, এলাকায় ছোট ছোট খাল ছনুয়া খাল, পাতালি খাল,উল্লেখযোগ্য খালের মধ্যে আরো রয়েছে বারিয়া বন ছড়া খাল, আচিলা খাল, কোদালা খাল, সোনাছড়ি খাল এবং পাইরাং ছড়া খাল। এই খাল গুলো শতভাগ খনন হলেই বাঁশখালী বন্যা ও জলবদ্ধতা মুক্ত হবে।
জসিম উদ্দীন মাহমুদ তালুকদার
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ন্যাপ।

