
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জুয়েল
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় পুলিশের পোশাক পরে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য ঢাকাগামী একটি পরিবারের প্রাইভেটকার থামিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণ ও রুপার অলংকার, মোবাইল ফোন, চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ মূল্যবান মালামাল লুট করেছে। পরে ছিনতাই হওয়া প্রাইভেটকারটি হবিগঞ্জের নিকটবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সোমবার (২৯ জুন) ভোর রাতে তারা সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকার পথে রওনা হন। প্রাইভেটকারে ছিলেন মাসুম, তাঁর মামা নিজামুল ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য। কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার এলাকা অতিক্রম করার পর পুলিশের পোশাক পরা তিন ব্যক্তি গাড়ি থামানোর সংকেত দেন। পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়েই তারা গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
এরপর ডাকাত দলের একজন গাড়িটি মৌলভীবাজারমুখী সড়কে চালিয়ে নিয়ে যায়। কিছু দূর যাওয়ার পর আগে থেকে ওত পেতে থাকা ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ দল গাড়িটি একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাতরা চিকিৎসার জন্য সঙ্গে থাকা নগদ এক লাখ টাকা, মানিব্যাগে থাকা আরও ১০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন, স্বর্ণ ও রুপার অলংকার, ছয় মাসের চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন, ছেলের শিক্ষাসনদ, কাপড়চোপড়, বিছানাপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল লুট করে নেয়। ডাকাতদের হাতে পিস্তলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তারা।
লুটপাট শেষে ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের বেঁধে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীর স্ত্রী কোনোভাবে নিজের বাঁধন খুলে প্রথমে মেয়েকে এবং পরে অন্যদের মুক্ত করেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা মূল সড়ক এড়িয়ে চা-বাগানের ভেতর দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছান। পরে চৌমুহনী এলাকায় পুলিশের একটি টহল দলের সহায়তা পান।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় হবিগঞ্জের নিকটবর্তী এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ ডাকাতির এ ঘটনায় কুলাউড়া ও আশপাশের এলাকায় চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ডাকাত চক্রকে গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

