নিবন্ধিত গণমাধ্যমের প্রকাশক ও সম্পাদকদের প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা প্রদান এবং তাদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন দৈনিক জনজাগরণ-এর প্রকাশক ও সম্পাদক, মিরপুর প্রেসক্লাব ঢাকার সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য মোঃ শিহাব উদ্দিন।
তিনি বলেন, যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলেও অনেকের মতে এটি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চর্চা, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও জনমত গঠনে গণমাধ্যমের অবদান অনস্বীকার্য।
মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, টেলিভিশন চ্যানেল এবং সংবাদপত্র মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৯৬৯টি গণমাধ্যম রয়েছে, যা দেশের জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক পরিসরের তুলনায় খুবই সীমিত। অথচ এসব নিবন্ধিত গণমাধ্যম এবং তাদের প্রকাশক-সম্পাদকরা রাষ্ট্রীয়ভাবে যে সম্মান, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, বাস্তবে তার অনেকটাই অনুপস্থিত।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সত্য তুলে ধরতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের নানা ধরনের হুমকি, চাপ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কার্যকর ব্যবস্থা এখনও দৃশ্যমান নয়। হাতে গোনা কয়েকজন কিছু সুবিধা পেলেও অধিকাংশ নিবন্ধিত গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন।
মোঃ শিহাব উদ্দিনের মতে, সময়ের দাবি হলো দেশের প্রতিটি নিবন্ধিত গণমাধ্যমের প্রকাশক ও সম্পাদককে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দিয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা। একই সঙ্গে তাদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রটোকল প্রণয়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যমের মালিক ও সম্পাদকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বিশেষ নীতিমালা ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা বিদ্যমান থাকলেও বাংলাদেশে তা এখনও পর্যাপ্তভাবে দৃশ্যমান নয়। ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে এখনই সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে চিন্তাভাবনা করছে এবং নিবন্ধিত গণমাধ্যমগুলোর জন্য কিছু নতুন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, দেশের গণমাধ্যম খাতকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে সরকার কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।