বর্তমান সময়ে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির পাশাপাশি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও মানুষের আগ্রহ কম নয়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ও জীবনযাপন-সম্পর্কিত নানা শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে অনেকেই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রতি আস্থা রাখছেন। তবে নানা বিতর্ক, অপচিকিৎসা এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের কারণে একসময় এই চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে পুনরায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএস-এ অবস্থানরত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডাক্তার মোঃ খোরশেদ আলম (শাকিল)।
রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ, মনোযোগ দিয়ে সমস্যার কথা শোনা এবং দীর্ঘ সময় ধরে ফলোআপের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার রোগীদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। চিকিৎসা তার কাছে শুধু পেশা নয়, বরং মানুষের কষ্ট লাঘবের একটি সামাজিক দায়িত্ব বলেই মনে করেন তিনি।
ডাক্তার মোঃ খোরশেদ আলম (শাকিল) এর মতে, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মূল ভিত্তি হচ্ছে রোগীকে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করা। শুধুমাত্র রোগের নাম বা বাহ্যিক উপসর্গ নয়, একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও আবেগগত অবস্থাও চিকিৎসা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, “প্রত্যেক রোগীর একেকটি আলাদা গল্প থাকে। সেই গল্প না শুনে শুধু প্রেসক্রিপশন দিয়ে প্রকৃত চিকিৎসা সম্ভব নয়। রোগীর জীবনযাপন, মানসিক চাপ, ভয়, উদ্বেগ কিংবা দীর্ঘদিনের কষ্টের ইতিহাসও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হয়।”
তার চেম্বারে আসা অনেক রোগী জানান, অন্যান্য জায়গায় দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর তারা এখানে এসে ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। তাদের ভাষ্য, চিকিৎসকের ব্যবহার ও রোগীকে সময় দেওয়ার বিষয়টি তাদের আস্থা অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
চিকিৎসা কার্যক্রমের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ববোধকেও গুরুত্ব দেন ডা. শাকিল। আর্থিকভাবে অসচ্ছল অনেক রোগীকে তিনি স্বল্প খরচে কিংবা বিনামূল্যে পরামর্শ ও ওষুধ দিয়ে সহায়তা করেন বলে জানা গেছে। তার মতে, একজন অসুস্থ মানুষের কাছে চিকিৎসা একটি মৌলিক প্রয়োজন, যা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়।
হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে প্রচলিত বিভিন্ন ধারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে ফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। বাস্তবে রোগের ধরন, রোগীর অবস্থা এবং সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনার ওপর ফলাফলের সময় নির্ভর করে। তবে যেকোনো চিকিৎসা পদ্ধতির মতো হোমিওপ্যাথিতেও রোগীকে নিয়মিত পরামর্শ মেনে চলা এবং ধৈর্য ধারণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, “চিকিৎসক হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কোনো অর্থ নয়, একজন মানুষ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা। রোগীর মুখের হাসি এবং পরিবারের স্বস্তিই একজন চিকিৎসকের প্রকৃত অর্জন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখার নিজস্ব কার্যপরিধি রয়েছে। তাই জটিল বা জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিবন্ধিত ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
মিরপুর ডিওএইচএস-এ বসে নিয়মিত রোগী দেখার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও করছেন ডাক্তার মোঃ খোরশেদ আলম (শাকিল)। তার বিশ্বাস, সঠিক জ্ঞান, পেশাগত সততা এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
মানুষের সুস্থতা, মানবিক সেবা এবং চিকিৎসা পেশার নৈতিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে এগিয়ে চলা এই চিকিৎসকের লক্ষ্য একটাই—হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকে আরও গ্রহণযোগ্য ও আস্থার জায়গায় পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের পাশে থেকে সুস্থ জীবনের পথে সহযাত্রী হওয়া।