
ফরিদপুরে বিএনপির ত্যাগী নেতাকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ যুবদল কর্মীর
ফরিদপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনকে ঘিরে ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুবদলের এক কর্মী মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান রুপন।
তিনি জানান, তার পিতা শামসুল হক সরদার একসময় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের শ্রমিক রাজনীতি করেছেন এবং শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মরহুম জাফরুল হাসান সাহেবের সঙ্গে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিবিএ কে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর জেলা শ্রমিক দলের রাজনীতির সাথেও সম্পৃক্ত। তিনি বর্তমানে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং এর আগে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। দলীয় রাজনীতিতে তার সততা, ত্যাগ ও নিষ্ঠার বিষয়টি স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে সুপরিচিত বলে দাবি করা হয়।
রুপনের অভিযোগ, ফরিদপুরের কিছু নেতা দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করা ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার চেষ্টা করছেন, যাদের অতীতে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততা ছিল এবং শ্রমিক রাজনীতিকে ব্যবহার করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করায় মগ্ন ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এর পেছনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি আরও বলেন, “একজন ব্যক্তি সারা জীবন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার পরও যদি যথাযথ মূল্যায়ন না পান, তাহলে তা দলের জন্য হতাশাজনক এবং বিপদজনকও বটে, কারণ সে ক্ষেত্রে নেতৃত্ব যাবে স্বার্থান্বেষী আওয়ামী দালালদের হাতে। আমার পিতা কখনোই দলের সঙ্গে বেঈমানি করেননি এবং কখনোই কোন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হননি।”
নিজ পরিবারের ত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, তার বড় ভাই যথাযথ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সেনাবাহিনীতে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং তিনি নিজেও শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে (ঢাকা কলেজের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) সরকারি চাকরি পাননি বলে দাবি করেন।
রুপন আশা প্রকাশ করেন, দলের ত্যাগী নেতারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন এবং যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করবেন।
ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের বিষয়টি এখন নেতাকর্মীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

