
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামে জিয়াসমিন বেগম নামে এক নারীর বিরুদ্ধে প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে স্বামীসহ আত্মগোপন করার অভিযোগ উঠেছে। গ্রামের সরলমনা ও দরিদ্র নারীদের এনজিও থেকে ঋণ নিতে উৎসাহিত করে সেই টাকা আত্মসাৎ করায় এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত প্রায় দুই বছর ধরে জিয়াসমিন বেগম সুকৌশলে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। নিজের ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর অজুহাত দেখিয়ে তিনি গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত নারীদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ তুলে তাকে দিতে প্ররোচিত করতেন এবং কিস্তির টাকা তিনি নিজেই পরিশোধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিতেন।
শুরুতে কয়েকজনের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করায় গ্রামবাসীদের মধ্যে তার প্রতি গভীর আস্থা তৈরি হয়। এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তিনি ধাপে ধাপে অন্তত ৩০ জন নারীর কাছ থেকে প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ
গত রোববার গভীর রাতে জিয়াসমিন বেগম তার স্বামীসহ গোপনে এলাকা ত্যাগ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। বর্তমানে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ঋণগ্রহীতা নারীরা।
আঞ্জুয়ারা বেগম জানান, জিয়াসমিনের কথায় বিশ্বাস করে এনজিও থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন তিনি। এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন।
ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন বলেন, “আমার স্ত্রীকে বুঝিয়ে ১ লাখ টাকা ঋণ তুলে নিয়েছে জিয়াসমিন। কয়েকটা কিস্তি দিয়ে এখন সে লাপাত্তা।
এনজিওর লোক প্রতিদিন বাড়িতে এসে চাপ দিচ্ছে, আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি।”
আরেক ভুক্তভোগী রোকেয়া বেগম জানান, তিনি নগদ ও ঋণ মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকা দিয়েছেন জিয়াসমিনকে।
জিয়াসমিন বেগম ও তার পরিবারের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় এলাকা জুড়ে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এনজিওর প্রতিনিধিরা নিয়মিত কিস্তির টাকার জন্য চাপ দেয়ায় ঋণগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয়রা এই জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং জিয়াসমিন বেগমকে আইনের আওতায় এনে টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জিয়াসমিন বেগমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এই ধরণের প্রতারণা এড়াতে কোনো ব্যক্তিবিশেষের কথায় প্ররোচিত হয়ে নিজের নামে এনজিও বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অন্যকে প্রদান করা থেকে বিরত থাকুন। যেকোনো আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে লিখিত দলিল ও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

