মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ‘চ্যানেল খুলনা’-য় প্রকাশিত ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।
সম্প্রতি ‘চ্যানেল খুলনা’ নামক মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টালে ১২ই মার্চ ২০২৬ তারিখে মাসুম বিল্লাহ (৩০) নামক এক যুবককে কেন্দ্র করে “খুলনায় মাকে মারধর ও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মামলায় ছেলে কারাগারে” শিরোনামে যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে, আমরা ‘সচেতন এলাকাবাসী ও সংক্ষুব্ধ পক্ষ’ তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রকাশিত সংবাদে উপস্থাপিত তথ্যসমূহ একপাক্ষিক, অসত্য এবং বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
সংবাদটির মূল অসঙ্গতি ও প্রকৃত সত্য নিচে তুলে ধরা হলো:
**তারিখ ও তথ্যের বিভ্রান্তি: সংবাদে দাবি করা হয়েছে ঘটনাটি ঘটেছে ১ জানুয়ারি। অথচ সংশ্লিষ্ট আদালতের দাপ্তরিক নথিপত্রে ঘটনার তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৩০ জানুয়ারি। একটি সংবাদমাধ্যমের জন্য তারিখের এই ধরনের মৌলিক ভুল কেবল অপেশাদারিত্বই নয়, বরং এটি বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের অপচেষ্টা হিসেবেই প্রতীয়মান হয় এবং এটি যে একটি সাজানো মিথ্যা মামলা মূলত সেটাই প্রমাণ করে।
**জমির পরিমাণ ও মালিকানা সংক্রান্ত অসত্য তথ্য
: সংবাদে ১৬ কাঠা জমির যে কাল্পনিক দাবি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃত তথ্য হলো, অভিযোগকারীর মা ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অংশ থেকে বড় ছেলে মাসুম বিল্লাহকে ৪ কাঠা জমি হেবা (দান) করে দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, অভিযোগকারী নিজে এই জমির ওপর নির্মাণাধীন তিন তলা ভবন এবং জমি সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। সুতরাং জমি লিখে নিয়ে মাকে বাড়িছাড়া করার দাবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট।
**প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সাক্ষ্য: সংবাদে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেশীরা এসে সাহারা বানুকে উদ্ধার করেছেন। অথচ স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিডিও সাক্ষ্য এবং এলাকাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় এ ধরনের কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। জনসম্মুখে মারধরের যে নাটকীয় চিত্র সংবাদে আঁকা হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে তার কোনো ভিত্তি বা সমর্থন পাওয়া যায়নি।
**পুলিশি পাহারায় হুমকির হাস্যকর দাবি: সংবাদে বলা হয়েছে, আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় মাসুম বিল্লাহ তার মাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। একজন ব্যক্তি যখন পুলিশি পাহারায় এবং হাতকড়া পরা অবস্থায় থাকেন, তখন এ ধরনের হুমকি দেওয়ার দাবি কেবল অসম্ভবই নয় বরং হাস্যকর। এটি অভিযুক্তের চরিত্র হননের একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা মাত্র।
**সাংবাদিকতার নৈতিকতা লঙ্ঘন: উক্ত সংবাদ প্রকাশের আগে অভিযুক্ত পক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (চেয়ারম্যান বা মেম্বার) কিংবা নিরপেক্ষ কোনো পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়নি। যাচাইহীন একপাক্ষিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, সংবাদমাধ্যমটি বিশেষ কোনো মহলের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে কারো সামাজিক মানহানি করা সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতার পরিপন্থী।
আমরা মনে করি, পারিবারিক বিরোধ বা বিশেষ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা মামলা এবং সংবাদটি সাজানো হয়েছে। আমরা এই মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে সাংবাদিকতার মহান পেশাকে কলঙ্কিত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানাচ্ছি। নতুবা সংক্ষুব্ধ পক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।