
শেখ সৈকত রায়হান ইমন-বাগেরহাট
প্রায় ছয় মাসের চিকিৎসা, নিবিড় পরিচর্যা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শেষে একটি আহত রয়েল বেঙ্গল বাঘিনীকে তার প্রাকৃতিক আবাস সুন্দরবনে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ। দীর্ঘ চিকিৎসার পর বাঘিনীটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও শিকার করার সক্ষমতা ফিরে পাওয়ায় বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তাকে বনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেন্জের শরকীরখাল এলাকায় শিকারিদের পাতা একটি তারের ফাঁদে আটকা পড়ে গুরুতর আহত হয় বাঘিনীটি। খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরে নিরাপদে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী পরিচর্যা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
সেখানে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা, ক্ষত সারিয়ে তোলা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ এবং আচরণগত পর্যবেক্ষণ করা হয়। চিকিৎসা শেষে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হন যে বাঘিনীটি আবারও প্রাকৃতিক পরিবেশে স্বাধীনভাবে টিকে থাকার জন্য উপযুক্ত শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করেছে।
রোববার (১২ জুলাই) সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বন বিভাগ জানিয়েছে, অবমুক্তির পর বাঘিনীটির চলাচল, খাদ্য সংগ্রহ, শারীরিক অবস্থা এবং বনাঞ্চলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ উদ্দেশ্যে অবমুক্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, আহত কোনো রয়েল বেঙ্গল বাঘকে সফলভাবে চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বাঘের প্রাকৃতিক প্রজনন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিয়মিত টহল, অবৈধ ফাঁদ অপসারণ, উদ্ধার অভিযান, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী শিকার ও বনজ সম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

