
সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ
দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলীয় জেলা ঝিনাইদহের জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবন কৃষি উৎপাদন চরম ঝুঁকির মুখে পেড়েছে।
সরকারি ডিপো থেকে জেলা পর্যায়ের ফিলিং স্টেশন গুলোতে চাহিদা তুলনায় নগন্য পরিমান জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়ায় হাহাকার দেখা দিয়েছে।
ঝিনাইদহে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ডিজেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। গুজবের কারণে তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হওয়ায় এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারির ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালানো অভিযানে ইতোমধ্যে ১১(এগারো)টি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহে প্রায় ৯০(নব্বই) হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ (আশি) শতাংশ ধানি জমিই ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। সেচ মৌসুমে হঠাৎ তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির উদ্বেগ বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ডিজেল নিতে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে তেলের সংকট হতে পারে এমন গুজবে অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করছেন। আবার কিছু অসাধু চক্র কৃষক সেজে তেল সংগ্রহ করে বাইরে চড়া দামে বিক্রি করছে।
ঝিনাইদহের পোড়াহাটি ও বিষয়খালী এলাকার ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও চাহিদা হঠাৎ তিন গুণের বেশি বেড়ে গেছে। তেলের কোনো ঘাটতি নেই, তবে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদ জানান, ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধিতে কাজ করছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে ১৭ (সতেরো) টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অনিয়ম ও কারসাজির দায়ে ১১(এগারো)টি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কৃষকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল পাবেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কৃষকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল পাবেন।

