
সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলায় স্কুল ছাত্রীকে বাড়ি ফেরার পথে তুলে নিয়ে গিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
ধর্ষকরা শুধু ধর্ষণ করে ক্ষান্ত হয়নি, অভিযুক্তরা সেই নরকীয় ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকে এবং তা প্রদর্শন করে তারা এলাকায় আনন্দ উল্লাস করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার স্কুল ছাত্রীর পরিবার মহেশপুর থানায় ৪ (চার) জনের নামে একটি মামলা দায়ের করে।
এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে গত, ২৬ শে (ছাব্বিশ) মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের দিন সন্ধ্যায় স্কুল ছাত্রী পাশের বাড়ি থেকে নিজের বাসায় ফিরছিল। পথিমধ্যে সামন্তা বাগদিরহাট গ্রামের রাস্তার উপর থেকে শাওন ও হযরত আলী স্কুল ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে পাশের ১ (এক) টি ঘাস খেতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে আরো ২ (দুই) জন যোগ দেয় তাদের সাথে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, একই গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে হযরত আলী, তরিকুল ইসলামের ছেলে শাওন, দিনুর ছেলে নয়ন পালাক্রমে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।
এ সময় ফরিদ হোসেনের ছেলে আমিন ওই স্কুল ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে রাখে যাতে সে চিৎকার করতে না পারে।
নারকীয় এই ঘটনা চলাকালীন শাওন ও আমিন তাদের মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। ধর্ষণের পর স্কুলছাত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়ে থাকে এবং ঘটনাটি জানাজানি হলে ধর্ষণের ভিডিও ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
স্কুলছাত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলে, ওরা আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে তিনজন মিলে আমার সর্বনাশ করেছে এবং আমার পরিবারকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়েছিল তার ভয়ে আমি কাউকে কিছু বলতে পারিনি। কিন্তু ওরা নিজেরাই সেই ভিডিও মানুষকে দেখিয়ে আনন্দ উল্লাস করছে। আমি এর বিচার চাই।
স্কুল ছাত্রীর ফুফু ও মামলার বাদী জানান, সামাজিক মর্যাদা ও প্রানের ভয়ে স্কুল ছাত্রীর পরিবার প্রথমে চুপচাপ থাকলেও ধর্ষকরা ভিডিও নিয়ে লোকজনের কাছে বড়াই করা শুরু করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। স্কুল ছাত্রীর পরিবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
মহেশপুর উপজেলা থানার ওসি মেহেদী হাসান দৈনিক জন জাগরণ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধিকে জানান, স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
আসামিদেরকে গ্রেফতার এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের অভিযান চলমান থাকবে।
এলাকাবাসী দাবি করেন, এই ধরনের জঘন্য অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এভাবে বিঘ্নিত না হয়।

