
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের দুর্নীতির সুযোগ নেই এবং এটি কোনোভাবেই দলীয়করণ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য জোনায়েদ সাকি।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জগন্নাথপুর অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নারী প্রধানদের প্রাধান্য ও সরাসরি অর্থ সহায়তা
পাইলট কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার ৮৬টি পরিবারের নারী প্রধানকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারী প্রত্যেক নারী প্রধান ২,৫০০ টাকা করে সরাসরি অর্থ সহায়তা পাবেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান কার্ডের টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে চলে গেছে।
সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল পরিবারগুলোকে এই কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
আগামী বাজেটে বড় পরিকল্পনার আশ্বাস
জোনায়েদ সাকি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সরকার সবার আগে জনগণের কথা ভেবেছে। বিশেষ করে যারা সবচেয়ে প্রান্তিক, তাদের আগে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আগামী বাজেট থেকে এই ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা ধীরে ধীরে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।”
তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, এটি কেবল বিশেষ কয়েকজনের জন্য নয়, বরং যোগ্য সবার কাছেই পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা পৌঁছাবে।
অপরাজনীতি প্রত্যাখানের ডাক
একটি মহলের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একটি দল জনৈক উপদেষ্টার বক্তব্য বিকৃত করে নির্বাচনকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে।
এটি মূলত রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং পুরনো বন্দোবস্তের রাজনীতি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বাংলাদেশের মানুষ অপরাজনীতি প্রত্যাখান করেছে এবং আগামীতে জনগণের স্বার্থভিত্তিক রাজনীতিই টিকে থাকবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
খালেদ হোসেন মাহবুব, সংসদ সদস্য (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩)।
এম. এ. খালেক, সাবেক সংসদ সদস্য (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬)।
শাহ মো. আব্দুর রউফ, পুলিশ সুপার।
সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি।
মেহেদী হাসান পলাশ, সভাপতি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পাইলট প্রকল্পের সফলতার পর পর্যায়ক্রমে উপজেলার আরও দরিদ্র, হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

