
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় পর খুলনায় আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলটির একদল নেতাকর্মী প্রবেশ করেন। তবে এই ঘটনার ৩ ঘণ্টা পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা কার্যালয়টিতে আবারও অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৭-৮ জন নেতাকর্মী নগরীর শহিদ হাদিস পার্ক সংলগ্ন (শঙ্খ মার্কেট) কার্যালয়ে উপস্থিত হন। তারা দীর্ঘ দিন তালাবদ্ধ থাকা কার্যালয়টির নিচতলার কলাপসিবল গেটের তালা খুলে দোতলায় প্রবেশ করেন।
সেখানে গিয়ে তারা প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এ সময় তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পুরো ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নগরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন নামের একজন নিজেকে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, “রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে। আমরা নতুন সরকারকে বলতে চাই—আমরা সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে চাই। আশা করি, আমাদের রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পাব।”
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এই কার্যক্রমের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রায় ৩ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ‘রেড জুলাই’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও স্থানীয় জনতা কার্যালয়টির সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। নেতাকর্মীরা যে ছবিগুলোতে মালা দিয়েছিলেন, সেগুলো ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে টুটপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, আগুনের তীব্রতা খুব বেশি ছিল না, দ্রুত সময়ের মধ্যে তা নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবীর হোসেন বলেন, “বিকেলে হঠাৎ করেই কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী অফিস খুলেছিল। খবর পাওয়ার পর আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। যারা আইন লঙ্ঘন করে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, সন্ধ্যার পর আওয়ামী লীগ অফিস খোলার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধরা সেখানে আগুন দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এর আগে ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় কার্যালয়টিতে বড় ধরনের অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার ১৮ মাস পর আজই প্রথম দলটির নেতাকর্মীদের সেখানে প্রকাশ্যে দেখা গেল।

