
সুমন খান :
রাজধানীর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের গরিবে নেওয়াজ এভিনিউয়ের ৬২ নম্বর প্লটে অবস্থিত মুসলিম রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড মিনি চাইনিজ-এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে।প্রত্যক্ষদর্শী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থের বিনিময়ে রেস্টুরেন্টটিতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ স্থাপন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দালাল সোহাগ ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত বিডিআর রাজু প্রায় ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে এই অবৈধ সংযোগ স্থাপন করে দেয়।আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস অবৈধ গ্যাস লাইনের পাইপ ফেঁটে আগুন লাগার পর রেস্টুরেন্টের কর্মচারীওপথচারীদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এলাকাবাসী বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।দালালদের পলায়ন, গ্রেপ্তারের দাবি স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অবৈধ গ্যাস সংযোগ স্থাপনে জড়িত দালাল সোহাগসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ এই রেস্টুরেন্টের মালিককে গ্রেপ্তার ও অবৈধ প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।গ্যাস সংকটে অবৈধ ব্যবসার রমরমা সারাদেশে গ্যাস সংকটের কারণে যেখানে গ্যাস সিলিন্ডার দ্বিগুণ দামে পাওয়া যাচ্ছে না, সেখানে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের মুসলিম রেস্টুরেন্টে দিনে-রাতে অবাধে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে রেস্টুরেন্টের মালিক খোকন দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত আট বছরে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। এতে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
মিষ্টির দোকানেও নোংরা পরিবেশ
অভিযোগ রয়েছে, মুসলিম রেস্টুরেন্টের মালিক খোকনের মালিকানায় একই এলাকায় একটি মিষ্টির দোকানও রয়েছে, যেখানে নোংরা পরিবেশে নিম্নমানের মিষ্টি ও শিশু খাদ্য তৈরি করা হয়।ভুয়া কন্ট্রাক্টর ও অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা স্থানীয় সূত্র জানায়, অবৈধ গ্যাস সংযোগ স্থাপনে সহযোগিতা করছে নামধারী গ্যাস কন্ট্রাক্টর সোহাগ এবং একাধিকবার ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মাদক ব্যবসায়ী রবিউল আলম রাজু। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সোহাগ রেস্টুরেন্টের সামনে পান-সিগারেটের দোকান বসিয়ে আড়ালে এমনভাবে গ্যাস লাইন প্রবেশ করিয়েছে, যা সাধারণ চোখে ধরা পড়ে না।সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি মুসলিম হোটেলের অবৈধ গ্যাস সংযোগের তথ্য সংগ্রহ করে ফেরার পথে রাকিবুল হাসান শান্ত নামে এক গণমাধ্যমকর্মী হামলার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, আরিফুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম রাজু ও ইদ্রিসের নির্দেশে রেস্টুরেন্ট মালিক খোকন ও তার কর্মচারীরা এই হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই সাংবাদিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, মালিক খোকন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তিনি সরকারি সম্পদ (গ্যাস) চুরি করে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।স্থানীয়দের দাবি
এলাকাবাসী অবিলম্বে মুসলিম রেস্টুরেন্টের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

