
দেবাশীষ রায় :
কারওয়ান বাজারে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির কোটি কোটি টাকার কর্তৃত্ব নিতে, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন ও ঢাকার এক সময়ের ত্রাস গডফাদার বিনাশের কলকাঠির ছকে স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা মুসাব্বির খুন।
ঢাকার কারওয়ান বাজার ব্যবসায়িক কাঁচামালের পাইকারি বাজার হলেও, রাজনৈতিক দলের নেতা ও আন্ডারওয়ার্ল্ড -এর জন্য চাঁদাবাজির এক অভয়ারণ্য ও স্বর্গরাজ্য। কারওয়ান বাজারে সন্ধ্যা নামলেই চাঁদাবাজির আসল খেলা শুরু হয়, যে খেলায় চলে কোটি কোটি টাকার হাতছানি। তাইতো কারওয়ান বাজারে কোটি টাকার গদির কর্তৃত্ব নেওয়ার জন্য সুদূর প্রবাস থেকেও প্রভাবশালী গডফাদাররা বিভিন্ন কলকাঠি নাড়েন এবং ছক কষেন।
এমনই এক কলকাঠি ও ছক কষার ইশারায় প্রাণ হারাতে হলো স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা চাঁদাবাজ মুসাব্বিরকে। ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্ট -এর পর দেশের পট পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন চাঁদাবাজির পয়েন্টে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় কারওয়ান বাজারের কর্তৃত্ব নেয় স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা মুসাব্বির।
২০২৪ এর ৫ ই আগস্ট এর আগে কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি স্পটগুলো নিয়ন্ত্রণ করতো গডফাদার বিনাশ। বিদেশে থাকা আন্ডার ওয়ার্ল্ডের ঢাকার গডফাদার বিনাশ দীর্ঘদিন যাবত বাংলা মোটর, মগবাজার, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, শাহজাদপুর, ভাটারা থানা, বসুন্ধারা আবাসিক এলাকা, মহাখালী, গ্রীন রোড, পান্থপথ এলাকাসহ আন্ডার ওয়ার্ল্ডের ডন বিনাশ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এছাড়াও ফার্মগেট, কাজীপাড়া ও কারওয়ান বাজার এলাকাও বিনাশ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল।
২০২৪ এর ৫ ই আগস্টের পরে গডফাদার বিনাশের স্পটগুলো নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা তুলতে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা মুসাব্বির। এই বহিষ্কৃত নেতা মুসাব্বিরের চাঁদাবাজির একাধিক মামলা তেজগাও থানায় ও ডিবিতে রহিয়াছে। বিভিন্নভাবে লোকমুখে জানা যায়, গডফাদার বিনাশ মুসাব্বিরের সাথে সমঝোতার জন্য যোগাযোগ করে, সমঝোতার প্রস্তাব মুসাব্বির শুধু প্রত্যাখ্যানই করেনি, বরং গডফাদার বিনাশের লোকদেরকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। এতে গডফাদার বিনাশ সুদূর প্রবাস থেকে মুসাব্বিরকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষতে থাকে। ৭১ টিভির এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায়, ১৫ লক্ষ টাকার চুক্তিতে মুসাব্বিরকে সরিয়ে দেওয়ার ডিল চূড়ান্ত করা হয় এবং মুসাব্বিরকে পৃথিবী থেকে খুন করে সরিয়ে দেওয়া হয়। মুসাব্বিরকে প্রাণে মেরে ফেলতে ভাড়াটে খুনি বা প্রফেশনাল কিলারদের এলাকায় টোকাই ছদ্মবেশে রেকি করে মুসাব্বির হত্যার মিশন কমপ্লিট করা হয়।

