
মোঃ আবুল কালাম-ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর :
নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নে স্বাধীনতার ৫৪ বছর অবহেলিত ব্রিজের দাবিতে মানববন্ধন ও নির্বাচন এলেই সংসদ সদস্য প্রার্থীরা এসে বড় বড় স্বপ্ন দেখাই, এখন ৪ দফা প্রাণের দাবি জানিয়েছেন বগডহরবাসীর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রাম। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ অবধি নবীনগর সদর ও বগডহরের সংযোগস্থলে নির্মিত হয়নি একটি স্থায়ী ব্রিজ। এই দীর্ঘ বঞ্চনার প্রতিবাদে এবং মৌলিক ৪ দফা দাবিতে আজ ১৫ জানুয়ারি, শুক্রবার বিকাল ৩:৩০ মিনিটে নৌকা ঘাটে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী ।
নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নের দেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন শত শত সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসীর ৪ দফা দাবি:
১. নবীনগর টু বগডহর ব্রিজ নির্মাণ: এটি ইউনিয়নের প্রধান ও প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
২. মানসম্মত হাই স্কুল: ইউনিয়নে একটি আধুনিক ও মানসম্মত উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
৩. উন্মুক্ত খেলার মাঠ: তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একটি স্থায়ী খেলার মাঠ।
৪. ঐক্য ফোরাম গঠন: দেশ ও প্রবাসে থাকা ইউনিয়নবাসীদের নিয়ে একটি ‘সর্বদলীয় ঐক্য ফোরাম’ তৈরি করা।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচন এলেই সংসদ সদস্য প্রার্থীরা এসে আমাদের বড় বড় স্বপ্ন দেখান। ব্রিজ, স্কুল, মাদ্রাসা আর খেলার মাঠের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়ে যান। কিন্তু নির্বাচনের পর তাদের আর এলাকায় দেখা যায় না। তারা আমাদের বোকা বানিয়ে চলে যান।”
নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নের
স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে জানান, বগডহর থেকে নবীনগর সদরের দূরত্ব মাত্র ১ থেকে ২ কিলোমিটার হলেও একটি ব্রিজের অভাবে এই সামান্য পথ পাড়ি দিতে নাভিশ্বাস ওঠে। তারা বলেন, “জরুরি অবস্থায় কোনো রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। পথেই অনেকের মৃত্যু ঘটে। একটি ব্রিজের অভাবে আমরা আধুনিক সকল নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”
প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ও সংহতি
এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নের প্রবাসী ভাইরা। তাদের মতে, এলাকার উন্নয়নের জন্য একটি অরাজনৈতিক ‘ঐক্য ফোরাম’ গঠন এখন সময়ের দাবি, যা এলাকার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি নিজেরাও তদারকি করতে পারবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এবার আর ফাঁকা প্রতিশ্রুতিতে তারা ভুলবেন না। দ্রুত সময়ের মধ্যে নবীনগর টু বগডহর ব্রিজের দৃশ্যমান কাজ শুরু না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবেন বলে জানান মানববন্ধন আয়োজনকারীরা।

