
নিজস্ব প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা, ঠিক তখনই দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী সরকারি হাসপাতাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রতিনিয়ত ফুটে উঠছে রোগীদের অবহেলা ও চরম ভোগান্তির চিত্র। দেশের এক নম্বর হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা সেবার এমন করুণ বাস্তবতা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা সেবার মান দিন দিন অবনতি ঘটছে। জরুরি বিভাগে রোগী আসার পরও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া, প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি, চিকিৎসকদের অনীহা এবং দায়িত্বহীন আচরণ—সব মিলিয়ে রোগীরা পড়ছেন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে।
নড়াইল থেকে আগত এক ভুক্তভোগী নারী জানান, তার স্বামী ব্রেন স্ট্রোক করলে অ্যাম্বুলেন্সযোগে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ইমার্জেন্সিতে পৌঁছানোর পরও রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। রোগীর অবস্থা গুরুতর হলেও চিকিৎসকদের অবহেলা ছিল চোখে পড়ার মতো। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেও অক্সিজেন দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। বারবার অনুরোধ করেও চিকিৎসকদের সাড়া মেলেনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমি কান্নাকাটি করেছি, পুরো হাসপাতাল ভাসিয়ে দিয়েছি—তবুও কোনো ডাক্তারের মনে এক ফোঁটা মায়া জাগেনি।” অবশেষে চিকিৎসার অভাবে তার স্বামী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিনিয়ত ঘটছে বলে জানান অন্যান্য রোগীর স্বজনরাও। অনেকেই অভিযোগ করেন, সাংবাদিকরা এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার খবর সংগ্রহ করতে গেলে হাসপাতালের স্টাফদের বাধার মুখে পড়তে হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
ভুক্তভোগীদের মতে, যদি দেশের সবচেয়ে সুনামধন্য সরকারি হাসপাতালের অবস্থা এমন হয়, তাহলে সাধারণ রোগীরা নিরাপদ চিকিৎসা পাবে কোথায়—এই প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর এমন করুণ চিত্রে রোগীদের মধ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি হচ্ছে।
রোগী ও স্বজনরা দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, অবিলম্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চিকিৎসক, নার্স ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা—সংশ্লিষ্ট সকলকে জবাবদিহির আওতায় এনে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিধি বাড়ানো ও চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানান তারা।
ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, এই অবস্থা চলতে থাকলে প্রতিনিয়ত চিকিৎসার অভাবে পরিবারের কর্মক্ষম মানুষ হারাবে অসংখ্য পরিবার, যার দায়ভার শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও সরকারের ওপরই বর্তাবে। সরকার কি এই পরিবারগুলোর দায় নিবে?

