
মোঃ ওয়াহেদ আলী :
লালমনিরহাটের বিমানবন্দর কেন চালু হবে না এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে লালমনিরহাট বাসীর মধ্যে বেশ আনন্দ উল্লাস বিরাজ করছে। ফলে দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি টি এখন আরো জোড়াল হয়ে উঠার পাশাপাশি প্রাণ চাঞ্চল্যর সৃষ্টি করেছে লালমনিরহাটবাসীর মধ্যে।
জানা গেছে, বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর জন্য প্রক্রিয়া গ্রহণে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রত্যেককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রুল জারির আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন নিজেই। আর রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির।
বিষয়টি জানাজানির পর থেকেই মূলত লালমনিরহাট বাসীর কাছে তাদের প্রাণের দাবীটি এখন আরো জোরাল হয়ে উঠেছে।
এর আগে ‘৬০ বছরেও চালু হয়নি লালমনিরহাট বিমানবন্দর’ শিরোনামে গত বছরের ৫ অক্টোবর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটিসহ লালমনিরহাটের পরিত্যক্ত বিমানবন্দর নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন চলতি বছরের ২৮ জুলাই রিটটি করেন।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৩১ সালে লালমনিরহাটে বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হয় জানিয়ে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এক হাজার ১৬৬ একর জায়গায় জুড়ে বিমানবন্দরটির অবস্থান। ১৯৪৭ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই বিমানবন্দর ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত কিছু পরিসেবা সীমিত পরিসরে চালু থাকে। এরপর থেকে বিমাবন্দরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ২০১৯ সালের বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আইনজীবী আরো জানান, একই বছরের ১৩ মার্চ বিমানবাহিনীর তৎকালীন প্রধান বিমানবন্দরের স্থান পরিদর্শনও করেন। তবে পরিদর্শনের পর পুনরায় বিমানবন্দরটি চালু করা কিংবা কার্যক্রম শুরু করায় সক্রিয় কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বিমানসুবিধাসহ চলাফেরার সুযোগ-সুবিধার দিক বিবেচনায় সেখানকার বাসিন্দারা বঞ্চিত, যা সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ সমর্থন করে না। এসব কারণে রিটটি করা হলে শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ওই রুল দিয়েছেন।

