
নাসরিন আক্তার-বরগুনা :
বরগুনা–নিশানবাড়িয়া সড়কের বেহাল অবস্থার প্রতিবাদে ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। এলজিইডি এক সপ্তাহ সময় নিলেও ঠিকাদারের উদাসীনতায় ধূলাবালির যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
চুক্তি অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে সংস্কার কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং গতকাল থেকেই পুরো সড়কে পানি ছিটিয়ে ধূলাবালি নিয়ন্ত্রণ করার কথা ছিল। পাশাপাশি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কার্পেটিং সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিশেষ করে মনসাতলী ব্রিজ থেকে নিশানবাড়িয়া অংশের ঠিকাদার এসব নির্দেশনা মানছেন না।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পানি ছিটানোর নামে দায়সারা গোছের কার্যক্রম চলছে। রাস্তাজুড়ে এখনো উড়ছে ধূলাবালি। এতে শিক্ষার্থী, পথচারী, রোগী, চালক সবাই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন,
এই বেহায়াপনা আর মেনে নেওয়া হবে না। দুই বছর ধরে সড়কের কাজ কোন রকম করে যাচ্ছে। সড়কে যে পরিমাণ ধুলাবালি আমরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।
এলজিইডির কর্মকর্তারা সড়কটি পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বাস্তবে দেখা গেছে, ঠিকাদার সিদ্দিকুর রহমানের অংশে আংশিকভাবে পানি ছিটানো হলেও বাকি অংশে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
স্থানীয়রা আরো বলেন,
“অবরোধ স্থগিত মানেই আন্দোলন বন্ধ নয়। এক সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আবার কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে—এবার ছাড় দেওয়া হবে না।”
এলজিইডি জানিয়েছে, ঠিকাদার নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা, এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে খোয়া ফেলে রেখে কাজ ঝুলিয়ে রাখায় সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা দ্রুত ও টেকসই সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।
