
“ প্রয়াস “
ফিরোজা চৌধুরী
ক্যালেন্ডারের পাতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে আমরাও। বয়স বাড়ছে, চুলে দু-একটা পাক ধরা রঙ, থুতনির নিচে জমে ওঠা মেদ—সবই সময়ের স্বাক্ষর। দেশে-বিদেশের নানা খবরে জিভের স্বাদ বদলে যায়, আর প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখি—দিনটা ঘণ্টায় ঘণ্টায় কেমন নিঃশব্দে মিলিয়ে গেল!
বন্ধুবান্ধবের হাসি, বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাওয়া দুপুর, অসংখ্য না-পাওয়া, আর বারবার হেরে গিয়ে আবার ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়ে ধুলো ঝেড়ে ফেলা—সবই তো দেখে এসেছি আমরা। ছেলেবেলা বা কিশোরবেলার লড়াই ছিল পাঠকেন্দ্রিক, মাঠমুখী। এখন সব লড়াইই যেন জীবনমুখী, দায়িত্বভরাট।
সময়ের সঙ্গে এভাবে বদলে যেতে অদ্ভুত লাগে। মনে পড়ে—কৈশোর পেরোনোর দিনগুলোতে বিকেলের নরম আলোয় ব্যালকনি বা ছাদে দাঁড়ানো, রিকশায় চড়ে গ্যারিসনে গিয়ে আইসক্রিম খাওয়ার আনন্দ, বান্ধবীদের সঙ্গে খুনসুটি আর দলবেঁধে সেনাকুঞ্জে বেড়াতে যাওয়া… তারপর নতুন নতুন হুমায়ূনের বই, সায়েন্স ফিকশন, আর তিন গোয়েন্দা হাতে নিয়ে আমাদের ছোট্ট গোয়েন্দাগিরি—কী-ই বা বাকি রেখেছিলাম?
ভাবলে এখনো মনে হয়, যদি একটু ফিরে যেতে পারতাম কৈশোরে, সেই নির্লোভ অথচ বিস্ময়ে ভরা সময়ে।
আমাদের মধ্যবিত্ত স্বপ্ন, বয়ঃসন্ধির নরম বিকেল, টিউশন-ফেরত প্রেম, জানলা-জোড়া মনখারাপ, আর এক পৃথিবী আনন্দ—সবই ধরেছিল সেই কিশোরবেলা।
আর সেই সময়ের ছোট্ট হাতের লেখা গল্প, অনুগল্প, কবিতা—সেগুলোকে বিশেষভাবে রাঙিয়ে দেওয়া এক মানুষ কখনো ভোলা যায় না। আমরা কৃতজ্ঞ নাজমা নওয়াবের বাবার কাছে। আঙ্কেল আমাদের কচিকাঁচাদের লেখাগুলো সংগ্রহ করে সুন্দরভাবে ম্যাগাজিন আকারে প্রকাশ করেছিলেন—যা আমাদের কাছে তখন ছিল একেবারে অবিশ্বাস্য, স্বপ্নের মতো।
এছাড়াও ম্যাগাজিনকে পূর্ণ করেছে যারা—সেইসব সহপাঠী, বন্ধুবান্ধব, ছোট লেখক—সবার জন্যই আজকের এই স্মৃতিভরা পোস্ট।

