
জুলফিকার আলী জুয়েল :
গাজীপুর মহানগরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি হঠাৎই জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার ঝুঁকি এড়াতে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) আজ সকাল থেকেই বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। ডিবি, থানা পুলিশ ও বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট যৌথভাবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে।
সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার চলমান মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অসামাজিক কার্যকলাপ বা নাশকতা সংগঠিত না হতে পারে, সে লক্ষ্যেই গাজীপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করা হয়েছে। শহরের প্রবেশপথ, কোনাবাড়ী, কাশেমপুর কারাগার সংলগ্ন বেশ কয়েকটি স্থানে ডিবির বিচ্ছিন্ন টহল দেখা গেছে।
সকাল থেকে বড় বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, সিএনজি ও মোটরসাইকেল থামিয়ে যাত্রীদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে কারাগার এলাকা ও আদালতপথে বাড়তি সজাগতা বজায় রাখা হয়েছে। ডিবি সদস্যদের পাশাপাশি ইউনিফর্মধারী পুলিশও ব্যারিকেডে অবস্থান নিয়ে গাড়ির ভেতর-বাহির তল্লাশি করছে।
একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“শহরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণকে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি জোরদার রয়েছে।”
এদিকে হঠাৎ বাড়তি নিরাপত্তা জোরদারের কারণে অনেক এলাকায় যান চলাচল কিছুটা ধীর হয়ে যায়। তবে পুলিশ বলছে, এটি সাময়িক এবং যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় পুরো মহানগর এলাকায় সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়াই নাশকতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে রাতেও টহল বাড়ানো হবে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অতিরিক্ত বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।

