
সাইমন :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটগণনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রিজাইডিং অফিসারদের ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনে ভোটগণনার বিবরণী পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সকল রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৩৬ অনুচ্ছেদের (১৫) দফার বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনে ভোটগণনার বিবরণীর এক কপি প্রেরণ করবেন।
এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরবরাহকৃত বিশেষ খামের মাধ্যমে সাধারণ ভোটকেন্দ্র থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগণনার বিবরণী (ফরম-১৬) ও গণভোটের ভোটগণনার বিবরণী (ফরম-৩) পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা কেন্দ্র থেকে পোস্টাল ব্যালটে প্রদত্ত ভোটগণনার বিবরণী (ফরম-১৬ক) এবং গণভোটের পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনার বিবরণী (ফরম-৪) প্রেরণ করতে হবে।
এ জন্য প্রত্যেক প্রিজাইডিং অফিসারকে একটি করে বিশেষ খাম সরবরাহ করা হবে। ইতোমধ্যে এসব বিশেষ খাম নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। ভোটগণনার বিবরণী যথাযথভাবে কমিশনে পৌঁছাতে প্রিজাইডিং অফিসাররা বীমাকৃত ডাক অথবা রেজিস্টার্ড ডাকযোগে তা প্রেরণ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিস থেকে প্রাপ্তি স্বীকার গ্রহণ করবেন।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, এ ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসারদের কোনো অগ্রিম ডাকমাশুল পরিশোধ করতে হবে না এবং নির্ধারিত খামে কোনো স্ট্যাম্প সংযোজনের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় ডাকমাশুল ডাক বিভাগকে ‘বুক এডজাস্টমেন্ট’-এর মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের মাধ্যমে প্রিজাইডিং অফিসারদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসাররা জেলা বা উপজেলা সদরের প্রধান পোস্ট অফিস অথবা ভোটকেন্দ্রের নিকটবর্তী সুবিধাজনক অন্য কোনো পোস্ট অফিস থেকে এসব বিবরণী ডাকযোগে পাঠাবেন।
এছাড়া ভোটগ্রহণের দিন প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসগুলো সারা রাত এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তীতে অফিস সময়ের মধ্যেই যেন ভোটগণনার বিবরণীর বিশেষ খাম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পৌঁছায়, সে জন্য ডাক বিভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসির এই পদক্ষেপ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং ভোটগণনার ফলাফল দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

