
মোঃ ওয়াহেদ আলী :
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কথিত বিতর্কিত আদেশের কারণে দীর্ঘ এক যুগ ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত থাকার ক্ষোভ থেকে এবার কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির দাবিতে আগামী রোববার থেকে।
নো প্রমোশন নো ওয়ার্ক’ বা পদোন্নতি না হলে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদ।
মন্ত্রণালয়ের ২০০০ বিধিমালা এবং আত্তীকৃত শিক্ষকদের আইনি জটিলতার অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে ৩২তম থেকে ৩৭তম ব্যাচের প্রায় আড়াই হাজার কর্মকর্তার পদোন্নতি।
বারবার আশ্বাসের পরেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা এই কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের সমন্বয়করা।শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ চলতি বছরের জুন এবং নভেম্বর মাসে দুই দফায় ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটি বা ডিপিসির সভা অনুষ্ঠিত হলেও কোনো এক অদৃশ্য কারণে পদোন্নতির আদেশ জারি করেনি মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে আত্তীকৃত শিক্ষকদের মামলা সংক্রান্ত জটিলতাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে।
অথচ ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা বলছেন আদালত পদোন্নতির ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা জানান অন্য ক্যাডারের ৩৬তম ও ৩৭তম ব্যাচের কর্মকর্তারা যথাক্রমে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পদোন্নতি পেয়েছেন। এমনকি সম্প্রতি স্বাস্থ্য ক্যাডারের পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারি পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা সব যোগ্যতা অর্জন করার পরেও বছরের পর বছর একই পদে পড়ে আছেন যা তাদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে।
এর আগে গত ৯ নভেম্বর সারা দেশে সব সরকারি কলেজে মানববন্ধন এবং জেলা প্রেস ক্লাবগুলোতে সংবাদ সম্মেলন করে ১৩ নভেম্বরের মধ্যে পদোন্নতির আদেশ জারির আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন প্রভাষকরা। সেই সময়সীমা পার হওয়ায় এখন তারা ১৬ নভেম্বর থেকে লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিসিএস শিক্ষা সমিতির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা খান প্রভাষকদের এই যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন এবং সংগঠনটি তাদের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ শাখার কর্মকর্তারা বলছেন প্রভাষকদের পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে ডিপিসি সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন এবং একাধিক মিটিংও হয়েছে তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি। সবমিলিয়ে দেশের সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

