
নিজস্ব প্রতিবেদক :
শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় টাকার বিনিময়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা রুজুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়াচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, অল্প কিছু ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন অভিযোগে মামলা রুজু করা হচ্ছে। এতে সাধারণ পরিবারগুলো আর্থিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে।
মহিষখোলা মোল্লাকান্দী এলাকার ভুক্তভোগী পারভিন আক্তারের পরিবার অভিযোগ করে জানায়—
“আমাদের পরিবারের পারভিন আক্তার, স্বামী – রিপন মাতবর ও বিনা আক্তার, পিতা – রিপন মাতবর এর নামে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা রুজু করে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মামলায় একই পরিবারের একাধিক জনকে আসামি করা হয়েছে।”
তাদের দাবি, শরীয়তপুরের জাজিরা থানার এক ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে নড়িয়া থানায় চাঁদাবাজি ও চুরির মিথ্যা অভিযোগে এই মামলাটি করান।
নড়িয়া উপজেলার সচেতন মহল বলছে, এই ধরনের মিথ্যা মামলা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ নয়, সমাজের শান্তি ও ন্যায়ের পরিবেশকেও নষ্ট করছে।
একজন মানবাধিকারকর্মী বলেন, “পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য যদি টাকার বিনিময়ে মিথ্যা মামলা রুজু করে, তাহলে সাধারণ মানুষের আইন ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাবে।”
তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে নরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
একইভাবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবিউল হাসানকেও একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এমন হয়রানি বন্ধ হবে না।
তাদের মতে, “নাগরিকদের ন্যায়বিচারের পথকে সুরক্ষিত রাখতে পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে সৎ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”
সচেতন মহল আশা প্রকাশ করেছে, পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ টাকার জোরে নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে না পারে।

