
মোঃ ওয়াহেদ আলী-লালমনিরহাট :
লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় আগাম শীতের সবজির উৎপাদন শুরু হয়েছে। কোন কোন এলাকায় আগাম সবজি উৎপাদনে বাজিমাত হওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকদের। তাই ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সব হাট-বাজারে পাওয়া যাচ্ছে টাটকা সব ধরনের শাকসবজি। কৃষকদের দাবি, অনুকূল আবহাওয়া, জমির উর্বরতা ও কৃষি অফিসের পরামর্শে এ বছর সবজির ফলন বিগত বছরের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে।
ইতোমধ্যে আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, লালশাক, করলা, শসা, লাউ, সিম, টমেটো ও বেগুনসহ বিভিন্ন দেশি সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। ধীরে ধীরে আবাদ আরও বাড়বে কয়েকগুণ। নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে কৃষি বিভাগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
কৃষকদের মতে, কম সময়ে বেশি লাভ ও নগদ অর্থপ্রাপ্তির কারণে সবজি চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তবে সার সংকট ও অনুকূল আবহাওয়ার অভাবে ফলন কিছুটা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, লালমনিরহাটের মাটি উর্বর ও আবহাওয়া সবজি চাষের জন্য উপযোগী। তাই এখানে সময়ের আগেই শীতকালীন সবজি উৎপাদন সম্ভব হয়। চলতি মৌসুমে আগাম জাতের সবজির ফলন ভালো হয়েছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু করেছেন এবং তারা ভালো দাম পাচ্ছেন।
চলতি মৌসুমে উৎপাদিত আগাম সবজি বাজারে সরবরাহ বাড়লে সাধারণ ক্রেতারাও ন্যায্য দামে তাজা সবজি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা।
সব মিলিয়ে, এ বছর এখন পর্যন্ত অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি সহায়তা ও কৃষকদের নিবেদিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় শীতকালীন সবজির ফলন ভালো। বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, দামও রয়েছে সাধারণ ক্রেতার নাগালের ভেতর।

