
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ধানমন্ডি (ঢাকা) থেকে মহানগর ডিবি পুলিশের একটি দল গতকাল (বা আজ) ধানমন্ডি ৬নং রোডের ২৯ নম্বর হাউজ, লিগ্যাসি বিল্ডিং-এর এম-এফ ফ্ল্যাট থেকে শাহীন সোলায়মান মোল্লা নামে একজন প্রতারককে আটক করেছে। আটককালে ফ্ল্যাট থেকে তানিয়া নামের একটি মেয়েকে পাওয়া যায়; সে নিজেকে আটক ব্যক্তির স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, শাহীন সোলায়মান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাল প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় তিনি আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, পরে এনসিপির সঙ্গে সম্পর্কস্থ করলেও নানা সময় বিভিন্ন লোককে বিদেশে ভিসা/চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করেছেন। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন প্রতারক লন্ডনে পাঠানোর কথা বলে মানুষগুলিকে ফিলিপাইন নিয়ে যায় এবং সেখানে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে বড় অংকের টাকা আদায় করত; টাকা না হলে তারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, শাহীনের মা পেয়ারা বেগম, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা—বিশেষত তাঁর ছেলেরা—ও এই প্রতারণা-নেটওয়ার্কে সরাসরি জড়িত আছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, আক্রান্তদের ওপর নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে টাকা দেশে থেকে নেওয়া হতো। এছাড়া অভিযুক্ত নানারকম সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের কাছে প্রতারণা করতেন—কখনো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন এমনটিও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে—যদিও এসব পরিচয়ের সত্যতা ভুক্তভোগীরা যাচাই করতে পারেননি।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দাবী করেছেন যে, এই ধরনের সংগঠিত প্রতারণা ও নির্যাতনের ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুততর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় সংস্থার কাছে ন্যায় বিচারের অতি দ্রুত ব্যবস্থাও কামনা করেছেন।
মহানগর ডিবি পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের চিহ্নিত করতে বেশ কিছু জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানও শুরু করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নির্যাতিতদের সুরক্ষা, তদন্তে বস্তুনিষ্ঠতা ও প্রমাণ সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—পুলিশের দাবি অনুযায়ী মামলা দায়ের ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিস ও তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনার বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং স্থানীয়রা আশা করছেন তদন্ত দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে, যাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যায় এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ রোধ করা সম্ভব হয়।

