
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে মাত্র ২২ দিন বয়সী এক নবজাতককে হত্যার পর মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে তারই বাবার বিরুদ্ধে। পুলিশ এই নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা নাহিদুর রহমান শেখকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে দিঘলিয়ার বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুর নাম মোনতাসির শেখ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে লাখোহাটি গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে মুর্শিদা আক্তার মৌয়ের সঙ্গে দিঘলিয়ার সেনহাটি গ্রামের নাহিদুরের বিয়ে হয়। ২২ দিন আগে মৌ একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন এবং তিনি বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। গত ২ মার্চ নাহিদুর তার শ্বশুরবাড়িতে যান।
পরদিন ৩ মার্চ সকালে নাহিদুর শিশুটিকে কোলে নিয়ে বাইরে বের হন। অভিযোগ রয়েছে, এই সময়েই তিনি শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পাশের একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে বাড়িতে ফিরে তিনি স্ত্রীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জানান যে, শিশুটিকে তিনি নিজের বাড়িতে রেখে এসেছেন। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথিমধ্যে ফরিদপুরের কাছাকাছি পৌঁছালে নাহিদুর অসুস্থ বোধ করেন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে স্ত্রী চিৎকার শুরু করেন এবং অভিযোগ করেন যে তার স্বামী তাদের সন্তানকে হত্যা করেছে। হাসপাতালের কর্মীরা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে বেরিয়ে আসে এই লোমহর্ষক ঘটনার তথ্য।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে দিঘলিয়া থানা পুলিশ লাখোহাটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদুর তার সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
ওসি আরও জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

