
আল হাফিজ-মোল্লাহাট (বাগেরহাট) :
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলা-এ চলতি বোরো মৌসুমে সারসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ব্যাপক চাহিদার মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চুনখোলা ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার হিসেবে পরিচিত আরিফুল মুন্সির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুনখোলা ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আরিফুল মুন্সিসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কৃষিপণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে মোল্লাহাটের সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং সমঝোতার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করা হয় বলেও সাংবাদিকরা দাবি করেছেন।
সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দেওয়া বক্তব্য গোপনে ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, কৃষিপণ্য—বিশেষ করে সার—বোরো মৌসুমে কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মূল্য আদায় কিংবা অনিয়ম হলে ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক কৃষকরাই। তারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ গণমাধ্যমের সাংবিধানিক অধিকার; এ ধরনের হুমকি গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
কৃষকরা জানান, বাংলাদেশে কৃষি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে জাতীয় অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তায়। তাদের ভাষ্য, কিছু অসাধু চক্র যদি সার ও কৃষিপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, তবে তা উৎপাদন ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কৃষি খাতকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হলে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।

