
আল হাফিজ-মোল্লাহাট (বাগেরহাট) :
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বিয়ের প্রলোভনে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও সীমাহীন প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক অবিবাহিত যুবক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারী কামনা খানম আইনি প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন বাগেরহাট পিবিআই পুলিশের উপপরিদর্শক মোঃ নজরুল ইসলাম।
অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, উপজেলার কুলিয়া গ্রামের ইকু মোল্লার মেয়ে কামনা খানমের বিয়ে হয়েছিল একই উপজেলার ভান্ডারখোলা গ্রামে। তবে বনিবনা না হওয়ায় তিনি স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এ অবস্থায় পাশের গ্রামের ওবায়দুল শেখ তার অবিবাহিত ছেলে মো. হামিম শেখের সঙ্গে কামনার বিয়ের প্রস্তাব দেন। শুরুতে কামনার পরিবার প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও পরবর্তীতে হামিমের বাবা-মা তাদের আর্থিক অসচ্ছলতার কথা জানিয়ে, ছেলের চাকরির জন্য দশ লাখ টাকার প্রয়োজন বলে অনুরোধ করেন এবং বিয়েতে সম্মতি চান।
পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক কামনা ও হামিমের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় কামনার বাবা ও ভাই নবদম্পতির সুখী জীবনের আশায় নগদ ১০ লাখ টাকা ও গৃহস্থালির মালামালসহ প্রায় ১৩ লাখ টাকার সম্পদ প্রদান করেন।
বিয়ের পর প্রথম ছয় মাস সংসার ভালোভাবে চললেও পরবর্তীতে হামিম ও তার মা বাবা আরও ৫লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী কামনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। কিন্তু কামনার পরিবার অস্বীকৃতি জানালে হামিম তালাকের হুমকি দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামিম মূলত চাকরির আগে যৌতুকের অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে বিয়েটি করেছিলেন। চাকরি পাওয়ার পর কামনাকে অগ্রাহ্য করে তিনি ২০২৪ সালের ১০ জুলাই চাঁদপুর নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ‘সাদিয়া আফরিন’ নামে এক নারীর সঙ্গে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
ভুক্তভোগী কামনা খানম ও তার পরিবার এ ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ওই বিষয়ে হামিমদের বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের এড়াতে ঘরে তালা লাগিয়ে আত্মগোপন করায় অভিযুক্ত কারোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া হামিম মুঠোফোন রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ামাত্রই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে করেন।

