
মো: মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলা, হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ১১:৩০ মিনিটে খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম পিকচার প্যালেস মোড়ে ‘বাংলাদেশ সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চা’র ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি বীরেন্দ্রনাথ ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে খুলনা ও আশেপাশের জেলা থেকে আসা বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের কয়েকশ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একের পর এক সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। বিশেষ করে গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।
বক্তারা সারাদেশে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু বর্বরোচিত ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান, যার মধ্যে ,ভালুকা (ময়মনসিংহ): দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর অগ্নিসংযোগ,তারাগঞ্জ (রংপুর): বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র রায় এবং তাঁর স্ত্রীর ওপর পরিকল্পিত হামলা,সালথা (ফরিদপুর): মৎস্য ব্যবসায়ী উৎপল সরকার হত্যা,রায়পুরা (নরসিংদী): স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রাণতোষ কর্মকার হত্যা সহ বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করা বীরেন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “আমরা একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে।”
বক্তারা সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিকে সম্মান করতে হবে। যদি অতিদ্রুত এই সকল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করা হয়, তবে আগামীতে সারাদেশে আরও কঠোর এবং লাগাতার কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।”
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ (খুলনা মহানগর ও জেলা), বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনায় এই প্রতিবাদ সভা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সমাবেশে উপস্থিত সাধারণ মানুষ প্লেকার্ড ও ফেস্টুন হাতে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। নেতৃবৃন্দ আবারও মনে করিয়ে দেন যে, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

