
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছে ডাকযোগে ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগসংবলিত চিঠি পাঠানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন মুন্ডুমালা পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইদুর রহমান। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর নাম ব্যবহার করে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে ডাক বিভাগের মাধ্যমে মুন্ডুমালা পৌর বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে ওই চিঠি পৌঁছায় বলে জানা গেছে। চিঠি পাওয়া ব্যবসায়ীদের কয়েকজন বিষয়টি নিয়ে সাবেক মেয়র সাইদুর রহমানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে অবহিত করেন।
সাইদুর রহমানের অভিযোগ, চিঠিতে তাঁর নাম ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। তবে তিনি এ ধরনের কোনো চিঠি পাঠাননি এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের চাঁদা দাবি করার প্রশ্নই ওঠে না বলে দাবি করেন তিনি।
তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সাবেক মেয়র সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে আমি কখনো কারও কাছে একটি পয়সাও চাঁদা দাবি করেছি কি না—পৌরবাসীই তার বিচার করবেন। আমার অতীত কর্মকাণ্ড দেখলেই মানুষ বুঝতে পারবেন, এ ধরনের কাজ আমার দ্বারা সম্ভব কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য পরিকল্পিতভাবে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি নিছক কোনো চিঠির ঘটনা নয়; এর পেছনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে আমি মনে করি।’
সাবেক মেয়র বলেন, একটি কুচক্রী মহল তাঁকে জনসাধারণের কাছে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু মুন্ডুমালা পৌরবাসী তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। তাই কোনো অপপ্রচার বা সাজানো চিঠির মাধ্যমে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করা সম্ভব হবে না।
তিনি পৌরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের কাছে যদি আমার নাম ব্যবহার করে কোনো চিঠি, বার্তা কিংবা চাঁদা দাবির অভিযোগ আসে, তাহলে আপনারা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। বিষয়টি সরাসরি আমার সঙ্গে অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করবেন।’
সাইদুর রহমান আরও বলেন, ‘আমি পৌরবাসীর কাছে বিষয়টির বিচার ছেড়ে দিলাম। আপনারা আমার অতীত দেখুন, আমার কর্মকাণ্ড দেখুন এবং এরপর সিদ্ধান্ত নিন—আমি কখনো কারও কাছে চাঁদা দাবি করেছি কি না।’
তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ যদি প্রতারণা বা চাঁদা দাবির চেষ্টা করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাবেক মেয়র সাইদুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি তাঁকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তবে চিঠিটি কারা পাঠিয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

