
নিজস্ব প্রতিনিধি
জাতীয় বৃক্ষমেলা শেষ হলেও বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এখন থেকেই মূল কাজ শুরু বলেও মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনের হৈমন্তী মিলনায়তনে জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রথম বছরেই পাঁচ কোটি চারা রোপণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যার মধ্যে বন অধিদপ্তর ৩ দশমিক ৫ কোটি গাছের চারা রোপন করবে।
তিনি বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তরুণ ও যুব সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য সময়ের আগেই অর্জন করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন। দেশের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে সরকারের কার্যক্রম কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ইতোমধ্যে তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৩ দশমিক ৫ লাখের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজ, নারী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে এ কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সারাদেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা, চিত্রাঙ্কন ও গাছ চেনা প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর নির্বাচিত স্টলমালিকদের পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী, নার্সারি ও স্টল মালিক, পরিবেশ ও বন খাতের অংশীজন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র:বাসস

