
মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফ :
‘ক্ষণিকের দুনিয়াতে এত বড়াই কিসের? আপনি বা আপনার পরিবারের লোকজন যেভাবে উড়তেছেন, এটা ভালো হচ্ছে না।’-এমন ভাষায় চিঠি লিখে ঢাকার আশুলিয়ায় বিএনপির স্থানীয় এক নেতাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু হুমকির চিঠিই নয়, ওই নেতার বাড়ির ফটকের সামনে একটি বাজারের ব্যাগে রাখা হয়েছিল কাফনের কাপড়, একটি গুলি, আতর, গোলাপজল ও সাবান।
শনিবার (৮ আগস্ট) ভোরে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ওই নেতার বাসার ফটকের সামনে ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি তাঁকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগটি জব্দ করে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
হুমকি পাওয়া ব্যক্তি মো. ইসমাইল হোসেন মোল্লা। তিনি ইয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ভোর পাঁচটার দিকে বাসার ফটকের সামনে বাজার করার একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও ব্যাগ খুলতেই কাফনের কাপড়সহ কয়েকটি সামগ্রী ও একটি চিঠি পাওয়া যায়। চিঠির ভাষা পড়ে তাঁরা বিষয়টি ইসমাইল হোসেনকে জানান।
চিঠিতে ইসমাইল হোসেনকে উদ্দেশ করে আরও লেখা হয়, জামাই জন সাথে নিয়া বেশি উইড়েন না, ‘তাহলে কে কখন সালাম দিবে, নিজেও বুঝতে পারবেন না।’ চিঠির শেষাংশে বলা হয়, ‘আজকের পরও যদি উড়তে থাকেন, তাহলে আপনার নামে আমাদের তরফ থেকে অদৃশ্য কেউ পৌঁছে যাবে সালাম দিবে। পরকালের ঠিকানাতে চলে যাবেন।’ চিঠিটির নিচে ‘অদৃশ্য মুসাফির’ নামে স্বাক্ষর করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে- ইসমাইল হোসেনকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হুমকির পেছনে কারা রয়েছে এবং তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে কি না। বিশেষ করে চিঠিতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের চলাফেরা ও ‘জামাই’ প্রসঙ্গ উল্লেখ থাকায় হুমকিদাতারা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের বিষয়ে আগে থেকেই নজর রাখছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এখন পর্যন্ত হুমকির সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। চিঠিটি কে লিখেছে, কোথা থেকে এটি এসেছে এবং ব্যাগটি কখন সেখানে রাখা হয়েছে- এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মো. ইসমাইল হোসেন মোল্লা বলেন, এত দিন তো ভেবেছিলাম, আমার কোনো শত্রু নেই। এখন তো দেখছি আছে। কে বা কারা হুমকি দিয়েছে, বুঝতে পারছি না। তবে এই হুমকির ভয় আমি পাই না। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেব।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাজারের ব্যাগটি উদ্ধার করেছে। ব্যাগের ভেতর কাফনের কাপড়, একটি গুলি, আতর, গোলাপজল, সাবান ও একটি চিঠি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা গুলি ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষার পাশাপাশি হুমকির চিঠিটি কার লেখা, সেটিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হবে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে তা সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হতে পারে। একই সঙ্গে ইসমাইল হোসেনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, স্থানীয় বিরোধ এবং সম্ভাব্য শত্রুতার বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে হুমকিদাতাদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট হলে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

