
সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়া এক অজ্ঞাতনামা (৩৫) ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জাতীয় তথ্যভান্ডারে যাচাই করা হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর সড়কে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হন।
পরে নজরুল ইসলাম নামের এক অটোরিকশাচালক তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে মানবিক কারণে নিজের অটোরিকশায় করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাত ১০টার দিকে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর একটি দল মর্গে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জাতীয় তথ্যভান্ডারে মেলানোর চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর মশিউর রহমান জানান, সংগৃহীত ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাতীয় তথ্যভান্ডারে যাচাই করে পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পরিচয় নিশ্চিত করতে পুনরায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চালানো হবে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় বা ঠিকানা এখনও পাওয়া যায়নি। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো স্বজনের সন্ধান না মিললে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’-কে দায়িত্ব দেওয়া হবে।”

