তোমার নামটি উচ্চারণ করলেই
মনে হয় ভোরের প্রথম সূর্যের আলো
নিঃশব্দে ছুঁয়ে যায় আমার ক্লান্ত হৃদয়।
তুমি যেন এক অদেখা কবিতা,
যার প্রতিটি শব্দে লুকিয়ে আছে
আমার হাজারো না-বলা অনুভূতির গল্প।
জানো,
মানুষের জীবনে কিছু মানুষ আসে
যারা কখনো পুরোপুরি নিজের হয় না,
তবুও তাদের জন্যই হৃদয়ের সবচেয়ে সুন্দর জায়গাটি
আজীবন খালি রাখা হয়।
তুমি আমার সেই মানুষ,
যাকে হারানোর ভয়েই
কখনো নিজের ভালোবাসার সব কথা বলা হয়নি।
তোমার হাসি দেখলে মনে হয়
পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ যেন এক মুহূর্তে থেমে যায়।
তোমার চোখের গভীরতায়
আমি খুঁজে পাই অনন্ত আকাশ,
যেখানে আমার সমস্ত স্বপ্ন
ডানা মেলে উড়তে চায়।
যদি কোনোদিন জানতে চাও,
কতটা ভালোবাসি তোমায়—
তবে সমুদ্রের ঢেউ গুনে দেখো,
রাতের আকাশে জ্বলে থাকা তারাগুলো গুনে দেখো,
বর্ষার ফোঁটা গুনে দেখো।
তবুও আমার ভালোবাসার পরিমাণ
গুনে শেষ করতে পারবে না।
আমি তোমার কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি চাই না,
চাই না কোনো শর্তে বাঁধা সম্পর্ক।
শুধু চাই,
তোমার জীবনের প্রতিটি সকাল
হোক শান্তির আলোয় ভরা,
প্রতিটি বিকেল
হোক স্বপ্নের রঙে রাঙানো,
আর প্রতিটি রাত
হোক নিশ্চিন্ত ঘুমের আশ্রয়।
যদি কোনোদিন তোমার চোখে জল আসে,
বিশ্বাস করো—
আমার হৃদয়ও তখন নীরবে কেঁদে উঠবে।
কারণ ভালোবাসা মানে শুধু হাসি ভাগ করে নেওয়া নয়,
প্রিয় মানুষের কষ্টটুকুও
নিজের বুকে ধারণ করা।
সময় হয়তো একদিন
আমাদের দুই পথকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাবে।
জীবনের ব্যস্ততা হয়তো
অনেক স্মৃতিকে ধুলোয় ঢেকে দেবে।
তবুও একটি নাম
আমার হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে
চিরকাল বেঁচে থাকবে—
সে নাম “মনিরা”।
যদি কোনোদিন অনেক বছর পর
হঠাৎ দেখা হয়ে যায় আমাদের,
হয়তো আমরা দুজনেই বদলে যাব,
চুলে রূপালি রঙ লাগবে,
মুখে সময়ের রেখা পড়বে।
তবুও আমি চিনে নেব তোমাকে—
কারণ ভালোবাসা কখনো মুখ দেখে নয়,
হৃদয়ের স্পন্দন দিয়েই মানুষকে চিনে নেয়।
আজও যখন একা থাকি,
তোমার নামটি নীরবে উচ্চারণ করি।
কেউ শোনে না,
শুধু আকাশ, বাতাস আর আমার হৃদয় জানে—
একজন মানুষ আছে,
যাকে আমি নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছি।
মনিরা,
তুমি ভালো থেকো,
তোমার প্রতিটি স্বপ্ন পূরণ হোক,
তোমার জীবনের প্রতিটি পথ
আলোয় ভরে উঠুক।
আর যদি কোনোদিন
আমার কথা একটুও মনে পড়ে,
তবে শুধু একবার আকাশের দিকে তাকিয়ো।
আমি হয়তো পাশে থাকব না,
কিন্তু আমার ভালোবাসা
সেই আকাশের মতোই
নিঃশব্দে তোমায় আগলে রাখবে—
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
কারণ সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না;
সে শুধু নীরবে অপেক্ষা করে,
একটি নামের জন্য—
“মনিরা”।