
মোঃ হিমেল হোসেন
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সবজি চাষে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার নিচু জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মরিচ, বেগুন, পটল, ঢ্যাঁড়স, করলা, তরই ও কচুরমুখীসহ নানা ধরনের সবজির খেত নষ্ট হয়ে গেছে। উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বাজারেও। সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় গত এক সপ্তাহে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে কৃষকেরা যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তেমনি অতিরিক্ত দামে সবজি কিনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের অন্তত ৪৫ হেক্টর জমির সবজি চাষ বৃষ্টির পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় অনেক ক্ষেতের গাছ পচতে শুরু করেছে। ফলে চলতি মৌসুমে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে বদলগাছীর সাপ্তাহিক হাট ঘুরে দেখা যায়, বাজারে আগের তুলনায় সবজির সরবরাহ কম। বর্তমানে খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে বেগুন ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা, তরই ৩০ টাকা এবং পটল ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, উৎপাদন কমে যাওয়ায় পাইকারি পর্যায়েই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। পরে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হয়ে খুচরা বাজারে দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে।
বালুভরা ইউনিয়নের কৃষক মো. কামরুল হাসান তুষার জানান, আট বিঘা জমিতে প্রায় পাঁচ হাজার পেঁপে গাছ লাগিয়েছিলেন। গত সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে প্রায় তিন হাজার গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁর প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আধাইপুর ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ হাসান বলেন, পাঁচ কাঠা জমিতে পটল চাষে প্রায় ছয় হাজার টাকা ব্যয় করলেও অতিবৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে একটি পটলও বিক্রি করতে পারেননি।
সদর ইউনিয়নের কৃষক নূর ইসলাম বলেন, ১০ কাঠা জমিতে মরিচ চাষে ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত পানির নিচে চলে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী লিটন হোসেন বলেন, মাঠ থেকে সবজির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চাহিদা অপরিবর্তিত থাকায় বাজারে দাম বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান জানান, বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আবহাওয়া অনুকূলে এলে দ্রুত পুনরায় আবাদ শুরু করা যায়।
সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত বদলগাছীতে এ ক্ষতির প্রভাব শুধু স্থানীয় কৃষকের আয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, জেলার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় সবজি সরবরাহও কমে যেতে পারে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে এবং বাজারে সবজির দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

